Skip to content

আইসোটোপ কাকে বলে ? উদাহরণসহ সংজ্ঞা (Isotope)

আইসোটোপ কাকে বলে, আইসোটোপের ব্যবহার এবং এর বৈশিষ্ট্য, আইসোবার কাকে বলে, আইসোটোন কাকে বলে এসব বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে আমরা জানব। (What Is Isotope, Isobar and Isotone In Bengali)

1911 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণু গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেছিলেন। তিনি তার পরমাণু মডেলের বলেছিলেন যে, পরমাণুর একটি কেন্দ্র রয়েছে যার নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভিতরে প্রোটন এবং নিউট্রন, আর নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন অবস্থান করে।

যেহেতু আপেক্ষিকভাবে ইলেকট্রনের ভর শূন্য ধরা হয়, তাই পরমাণুর ভর বিবেচনা করার সময় নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের ভরকেই পরমাণুর ভর হিসেবে ধরা হয়।

বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড তার এই মডেলের ইলেকট্রনের কক্ষপথ এর আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণা দেননি।

পরবর্তীতে 1913 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী নীলস বোর পরমাণু একটি মডেল প্রদান করেন।

বোর পরমাণু মডেলের মতবাদ গুলো হলো:

পরমাণুতে যেসকল ইলেকট্রন থাকে সেগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের কতগুলো অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘোরে।

এই নির্দৃষ্ট ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার কক্ষপথ গুলোকে প্রধান শক্তিস্তর বা কক্ষপথ বলা হয়।

তাহলে এর থেকে আমরা এটা জানতে পারি যে, পরমাণু তিনটি কণা দিয়ে তৈরি। এই কথা‌ গুলো হলো ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। প্রোটন এবং নিউট্রন অবস্থান করে পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরতে থাকে।

এদের মধ্যে প্রোটন হলেও ধনাত্মক চার্জযুক্ত এবং ইলেকট্রন হলো ঋণাত্মক চার্জযুক্ত। আর নিউট্রনের আধান বা চার্জ নেই। এজন্য নিউট্রন কে নিরপেক্ষ কণা বলা হয়।

পারমাণবিক সংখ্যা: কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। প্রোটনের সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যাকে Z দিয়ে প্রকাশ করতে হয়।

একটি পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা এবং ইলেকট্রন সংখ্যা সমান। পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন রয়েছে নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক তত সংখ্যক ইলেকট্রন রয়েছে।

ভর সংখ্যা: কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যা এবং নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ভর সংখ্যা বলে।

এর মানে হলো, একটি পরমাণুর ভর প্রোটনের সংখ্যা প্লাস নিউট্রনের সংখ্যা।

পরমাণুর ভর সংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

একটি পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা পরমাণুর প্রতীকের নিচের দিকে বাম পাশে লেখা হয় এবং পরমাণুর ভরকে প্রতীকের বাম পাশে উপরের দিকে লেখা হয়।

আইসোটোপ কাকে বলে ? (What is Isotope)

আইসোটোপ কাকে বলে

আইসোটোপ (Isotope) কি: যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।

যেমন, ইউরেনিয়ামের আইসোটোপ হলো: ²³⁵92U এবং ²³⁹92U

এখানে ইউরেনিয়ামের প্রথম আইসোটোপের ভর সংখ্যা 235 এবং প্রোটন বা পারমাণবিক সংখ্যা 92।

সুতরাং এর নিউট্রনের সংখ্যা 235 – 92 = 143 টি।

এবং ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় আইসোটোপটি নিউট্রন সংখ্যা 239 – 92 = 147।

সুতরাং আইসোটোপ গুলোর মধ্যে ভর সংখ্যা এবং নিউট্রন সংখ্যার ভিন্নতা রয়েছে।

হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ

হাইড্রোজেন (H) সাতটি আইসোটোপ রয়েছে। এদের মধ্যে তিনটি হলো:

  • প্রোটিয়াম
  • ডিউটেরিয়াম
  • ট্রিটিয়াম

প্রোটিয়াম আইসোটোপ (¹1H): হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়ামের নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন থাকে এবং এর কোন নিউট্রন থাকে না এর ভর সংখ্যা 1।

ডিউটেরিয়াম আইসোটোপ (²1H): হাইড্রোজেনের ডিউটেরিয়াম আইসোটোপ এর নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন রয়েছে। এর ভর সংখ্যা 2।

ট্রিটিয়াম আইসোটোপ (³1H): হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপের নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন ও 2টি নিউট্রন রয়েছে ভর সংখ্যা 3।

আইসোটোপ এর বৈশিষ্ট্য

  • একটি পরমাণুর একাধিক আইসোটোপ এর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু এদের ভরসংখ্যা আলাদা।
  • আইসোটোপ গুলোর ভৌত ধর্ম যেমন ঘনত্ব, ভর, গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক ও আলাদা হয়ে থাকে।
  • একই মৌলের বিভিন্ন আইসোটোপের অবস্থান পর্যায় সারণিতে একই অবস্থানে থাকে। এদের সমস্থানিক বলা হয়।

আইসোবার কাকে বলে ? (What is Isobar)

আইসোবার কাকে বলে

আইসোবার (Isobar) কি: যে সকল মৌলের ভর সংখ্যা সমান থাকে কিন্তু এদের প্রোটন বা পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোবার বলে।

যেমন, ⁴⁰16S ⁴⁰17Cl ⁴⁰18Ar ⁴⁰19K এরা পরস্পরের আইসোবার এদের ভর সংখ্যা সমান যা 40। কিন্তু প্রোটন বা পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা।

আইসোটোন কাকে বলে ? (What is Isotone)

আইসোটোন কাকে বলে

আইসোটোন (Isotone) কি: যেসব মৌলের নিউক্লিয়াসে নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটনের সংখ্যা আলাদা এদের একে অপরের আইসোটোন বলে।

যেমন, ³⁶16S ³⁷17Cl ³⁸18Ar ³⁹19K ⁴⁰20Ca হলো একে অপরের আইসোটোন।

এদের নিউট্রন সংখ্যা 20। কিন্তু এদের প্রোটন সংখ্যা আলাদা।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কাকে বলে?

কিছু কিছু আইসোটোপ রয়েছে যাদের নিউক্লিয়াস নিজে থেকেই ভেঙ্গে গিয়ে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি নির্গত করে তাদেরকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে

আইসোটোপের ব্যবহার

ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ পারমাণবিক চুল্লিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যবহার করা হয়।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। আইসোটোপ ব্যবহার করে শরীরের রোগ আক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব।

থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ¹³¹I ব্যবহার করা হয়। এ আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং শরীরের থাইরয়েড ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।

এছাড়াও কৃষি ক্ষেত্রে আইসোটোপের ব্যবহার রয়েছে যেমন ফসলের পুষ্টিতে, ক্ষতিকারক পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ফসলের মানোন্নয়নে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

আমরা কি কি জানলাম

  • আইসোটোপ কাকে বলে? উদাহরণসহ সংজ্ঞা
  • আইসোটপের ব্যবহার
  • আইসোবার কাকে বলে?
  • আইসোটোন কাকে বলে?

অবশ্যই পড়ুন –

Leave a Reply

Your email address will not be published.