আত্মবিশ্বাস কি ? নিজেকে কিভাবে আত্মবিশ্বাসী করা যায়

আত্মবিশ্বাস কি
আত্মবিশ্বাস কাকে বলে ?

আত্মবিশ্বাস কি বা আত্মবিশ্বাস কাকে বলে?

আত্মবিশ্বাস অর্থ হচ্ছে আত্মপ্রত্যয়। অর্থাৎ নিজের শক্তিমত্তা , সক্ষমতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাসই আত্মবিশ্বাস । যেকোনো কাজ আমি যথাযথভাবে করতে পারব এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হব এ বিশ্বাস নিজের মধ্যে লালন ও ধারণ করাকে আত্মবিশ্বাস বলে ।

আত্মবিশ্বাসী হওয়ার গুরুত্ব

আত্মবিশ্বাস যেকোনো ব্যক্তিকে সবসময় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে । আত্মবিশ্বাসীরা নিজেদের শক্তিমত্তা ও সক্ষমতার উপর দৃঢ় বিশ্বাসী হয় বলে তারা দ্রুত সিদ্ধান্তে আসতে পারে ।

আত্মবিশ্বাসী মানুষ সকলের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন । অন্যরা যখন দেখে কেউ খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে কোনো কাজ সম্পাদন করছে তখন তারা ঐ ব্যক্তির প্রতি আস্থা রাখতে শুরু করে ।

আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করলে কাজটি নিখুঁত , নির্ভুল ও কার্যকরী হয় । আত্মবিশ্বাসীরা অন্যদের সমালোচনাকে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে । তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় তার উপর অটল থাকে এবং তা বাস্তবায়ন করে থাকে ।

ফলে অন্যরা তাদের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকে । দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকার কারণে যেকোনো কাজে আত্মবিশ্বাসীরা সহজেই সফলতা অর্জন করে । আত্মবিশ্বাস অর্জনের উপায় শিক্ষা মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করে , পরিশীলিত করে । শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ আত্মোপলব্ধির সুযোগ পায় ।

শিক্ষা মানুষকে তার পারিপার্শ্বিক সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে ও জানতে সহায়তা করে । ফলে তারা আত্মবিশ্বাসী হওয়ার রসদ পায় । আত্মবিশ্বাসী হওয়ার জন্য নিজের শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে জানতে হবে । মানুষ তার জীবনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারে যে সে কোন বিষয়ে দক্ষ ও কোন বিষয়ে নয় । যা সে ভালো বুঝে ও ভালো পারে তাই তার শক্তি ও সামর্থ্য ।

অর্থাৎ আমি কী করতে পারি বা কোন বিষয়ে আমার দক্ষতা বেশি সে বিষয়টি চিহ্নিত করতে হবে । যে বিষয়ে আগ্রহ বেশি সে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে । প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বা বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে । এতে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে ।

কোনো কাজ করতে গিয়ে ভুল হলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো যায় । কী কী কারণে ভুল হলো তা চিহ্নিত করে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সময়ে কাজ করলে আর ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে না ।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হলে কোনো বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করা যাবে না । এ কাজটি কঠিন বা এটা আমাকে দিয়ে হবে না এ রকম মনোভাব পোষণ করলে মনে সাহসের ঘাটতি দেখা দেয় , যার ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যায় । ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিবেচনা করলে কোনো কাজই কঠিন মনে হবে না । এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে ।

কঠিন মনে হবে না ক্যারিয়ার গঠনে আত্মবিশ্বাসের ভূমিকা যাদের আত্মত্মবিশ্বাস বেশি তারা লক্ষ্য নির্ধারণে সবসময় অগ্রগামী থাকে । তারা ভয় – ভীতিকে উপেক্ষা করে দৃঢ় মনোবলের সাথে তাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে থাকে এবং লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট থাকে ।

কোনো ধরনের হীনমন্যতা ও অন্যের নেতিবাচক মন্তব্য তাদের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং লক্ষ্য অর্জন থেকে বিচ্যুত করতে পারে না । অনেকে অল্প সময়ে লক্ষ্য অর্জনের স্বপ্ন দেখে থাকে । কোনো কারণে লক্ষ্য পূরণে দেরি হলে তারা চমকে যায় , হতাশ হয়ে যায় ।

কিন্তু যারা আত্মবিশ্বাসী তারা দমবার পাত্র নয় । তারা জানে , একদিন না একদিন সফলতা আসবেই , তাই তারা সর্বদা লক্ষ্যমুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে ।

আত্মবিশ্বাসীরা সবসময় সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে থাকে । তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণের জন্য তারা দৃপ্ত সাহসে বলীয়ান হয়ে বিভিন্ন কাজ করে থাকে । এ ধরনের ব্যক্তিরা কখনো তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় না । যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে হীনমন্যতা ঐ কাজের সফলতার পথে প্রধান অন্তরায় ।

আমি এ কাজ পারবো কিনা বা আমার দ্বারা হবে না কিংবা এ কাজ করলে কে কী বলবে এ ধরনের ভাবনাকে হীনমন্যতা বলে । আত্মবিশ্বাসীরা হীনমন্যতাকে সহজে জয় করতে পারে ।

আত্মবিশ্বাস কি বা আত্মবিশ্বাস কাকে বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আমাদের জীবনে আত্মবিশ্বাসের ভূমিকা

গুণ ও দক্ষতা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম উপাদান । অনেকে আছে যারা সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভীত হয়ে পড়ে বা বিভিন্ন পিছুটান তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক ভূমিকা রাখে । আত্মবিশ্বাসীরা সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে । কারণ তারা যা সিদ্ধান্ত নেয় তাই বাস্তবায়ন করে থাকে ।

দৃঢ় প্রত্যয়: জীবনে লক্ষ্য অর্জনে চাই ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা । এছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন কিংবা স্বপ্নপূরণ হয় না । এ কঠিন প্রতিজ্ঞার অপর নাম দৃঢ় প্রত্যয় । দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে লক্ষ্য অর্জন ও স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সম্পর্ক খুবই নিবিড় । ব্যাপক আগ্রহ ও সুদৃঢ় মনোবলসহ কোনো কাজ করাই দৃঢ় প্রত্যয় ।

দৃঢ় প্রত্যয়ীরা কোনো কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সে কাজের বাস্তবায়নে অটুট থাকে । দৃঢ় প্রত্যয়ের গুরু প্রত্যেক মানুষের জীশিক্ষকের সহায়তা নিয়ে শ্রেণিতে সবার দৃঢ় প্রত্যয় জীবনে লক্ষ্য অর্জনে চাই ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা ।

এছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন কিংবা স্বপ্নপূরণ হয় না । কঠিন প্রতিজ্ঞার অপর নাম দৃঢ় প্রত্যয় । দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে লক্ষ্য অর্জন ও স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সম্পর্ক নিবিড় । ব্যাপক আগ্রহ ও সুদৃঢ় মনোবলসহ কোনো কাজ করাই দৃঢ় প্রত্যয় । দৃঢ় প্রত্যয়ীরা কোনো কা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সে কাজের বাস্তবায়নে অটুট থাকে ।

দৃঢ় প্রত্যয়ের গুরুত্ব

প্রত্যেক মানুষের জীবনে দৃঢ় প্রত্যয়ের গুরুত্ব অনেক । দৃঢ় প্রত্যয় না থাকলে নিজের ক্যারিয়ারকে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন । দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে কোনো কাজ শুরু করলে লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা থাকে । কারণ দৃঢ় প্রত্যয়ীরা কখনো তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে পিছু হটে না বরং তারা যেকোনো উপায়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছে ।

দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে কোনো কাজ শুরু করলে তা সময়মতো সম্পন্ন হয় । লক্ষ্য অভিমুখে আপ্রাণ প্রচেষ্টা থাকার ফলে কাজগুলো একটির পর একটি সম্পূর্ণ হতে থাকে । দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়ার উপায় , দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন স্বপ্ন বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য । কারণ কোনো লক্ষ্য বা স্বপ্ন না থাকলে লক্ষ্যমুখী কোনো তৎপরতা থাকে না ।

এ ধরনের উদ্যোগ ছাড়া দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়ার সুযোগ থাকে না । তবে স্বপ্ন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে । বাস্তবের সাথে মিল নেই , জীবনের জন্য আবশ্যকীয় নয় বা বাস্তবে তা অর্জন সুদূর পরাহত এমন বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী হলে লক্ষ্যকেন্দ্রিক সকল তৎপরতা হবে পণ্ডশ্রম ।

কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের জন্য যে যে দক্ষতা আবশ্যক তা থাকতে হবে । লক্ষ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে কাজের শুরুতেই হোঁচট খেতে হবে ।

কেউ যদি লক্ষ্য স্থির করে তা অর্জনের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা না করে তবে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না । দৃঢ় প্রত্যয়ী হতে হলে নিজের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে । কোনো লক্ষ্য স্থির করলে তা সম্পর্কে পূর্বাপর ভেবে নেওয়া জরুরি । লক্ষ্যের ভালোমন্দ সম্পর্কে জানা ও সচেতন থাকা উচিত । লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ও সচেতনতা মানুষকে দৃঢ় প্রত্যয়ী করে তোলে ।

উপরে আত্মবিশ্বাস কী ? আত্মবিশ্বাস অর্জনের উপায়, নিজেকে কিভাবে আত্মবিশ্বাসী করা যায় এসব বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আত্মবিশ্বাস কি এ বিষয়ে আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে।

কিভাবে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবেন এ বিষয়ে ইউটিউবে ভিডিও দেখে নিতে পারেন।

Also read,

Abu Shafiq

আমি সফিক। আমি রংপুর বিভাগে থাকি। বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগের একজন স্টুডেন্ট। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি আমার ব্লগে কনটেন্ট লিখি। এটি আমার বাংলা ব্লগ। কনটেন্ট লিখার মাধ্যমে আমার অভিজ্ঞতা পাঠকদের সাথে শেয়ার করে থাকি। এছাড়াও আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে যুক্ত রয়েছি।

This Post Has 2 Comments

    1. Abu Shafiq

      কমেন্ট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply