Skip to content

ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন ? ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা

ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা কী? ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন?

ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন

Why It’s Important that We Study History?

যুগের পর যুগ ধরে মানবসভ্যতার চলমান জীবনধারাই হলো ইতিহাস। মানব সভ্যতার ইতিহাস এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে শত শত ভাঙ্গা-গড়া কাহিনী, উত্থান-পতন সামাজিক বিবর্তন এবং মানুষের নিরলস চেষ্টার তরঙ্গ।

এছাড়াও জড়িয়ে রয়েছে রক্ত-রঞ্জিত পটভূমি। অতীতকাল থেকে মানব সভ্যতা কিভাবে বর্তমানে প্রবাহিত হয়ে আসছে এবং অতীতের সত্য স্বরূপ আমরা উদঘাটন করতে পারি ইতিহাসের মাধ্যমে।

ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে আমরা অতীতের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারি, সে অনুযায়ী বর্তমানে সাধনা বা কাজ করতে পারি এবং ভবিষ্যতের ইঙ্গিত আমরা পেতে পারি।

তাই ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন এ বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে সবকিছু কিছু আলোচনা করব।

তার আগে চলুন ছোট আকারের জেনে নিই ইতিহাস কি (What is History in Bengali)?

ইতিহাস মানে কি ? (History Meaning in Bengali)

ইতিহাসকে মানবসভ্যতার আয়না হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কারণ ইতিহাস পাঠ করার মাধ্যমে আমরা মানব সমাজের আদিকাল থেকে তাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড চিন্তা-চেতনা উত্থান-পতন ইত্যাদি জানতে পারি এবং মানব সমাজের অগ্রগতি কিভাবে হয়েছিল এ বিষয়ে ধারণা লাভ করা যায়।

আমরা সকলেই বর্তমান যুগে বসবাস করি এবং ভবিষ্যতের (future) দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা (plan) করে থাকি। কিন্তু আমরা এটা কিভাবে বুঝতে পারি যে, আমরা কোন দিকে এবং কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের কেমন অগ্রগতি হচ্ছে?

তাহলে আমরা কোন দিকে এগোচ্ছি, এটা জানতে হলে আমাদেরকে প্রথমে বুঝতে হবে আমরা কোথা থেকে এসেছি? এসব বিষয়ে ভালোভাবে জানার জন্য আমাদের ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন।

এখন আমাদের ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন এ বিষয়ে যদি আপনি সবকিছু জানতে চান, তাহলে নিচে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।

ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন ? (Why We Should Study History)

ইতিহাস পাঠ করা কেন গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে জানতে নিচের পয়েন্ট গুলো পড়ুন।

১. বিশ্বকে ভালভাবে বোঝার দক্ষতা অর্জন করা যায়

ইতিহাস পাঠ করার মাধ্যমে আমরা এগুলো জানতে ও শিখতে পারি। যেমন, অতীতকালের সমাজ, ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, সরকার এসব কিছু কিভাবে তৈরি হয়েছিল, কিভাবে এগুলো পরিচালিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কিভাবে এদের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

বিশ্বসভ্যতায় আজ আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, বিশ্বের সমৃদ্ধ ইতিহাস তার পরিষ্কার চিত্র বহন করে।

ইতিহাসের বিষয়ে আমরা যদি আমাদের জ্ঞান এবং ভাবধারার বিকাশ ঘটাতে পারি, তাহলে জীবনের এই সকল বিষয়ে আমাদের জ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটবে।

অতীতে বিভিন্ন ধরনের সভ্যতা যার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, শিশুরা এখন ইতিহাস পড়ার মাধ্যমে এসব বিষয়ে ধারণা লাভ করে এবং তাদের জীবনধারা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এ সকল বিষয়ে জ্ঞান অর্জন একটি শিশুকে জ্ঞানী মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।

২. ইতিহাস জানা একজন পূর্ণবিকশিত মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করে

ইতিহাস হলো বিভিন্ন বড় বড় গল্পে ভরা। এই বিশাল আকারের গল্পগুলোর কিছু আমাদের অনুপ্রাণিত করে এবং কিছু আমাদের হৃদয়কে কষ্ট দিয়ে থাকে, আবার কিছু কাহিনী রয়েছে যেগুলোর কোন শৃঙ্খলা নেই বা বিশৃংখল এবং অনৈতিক।

ইতিহাসের প্রানবন্ত রাজ্য থেকে আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জানার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে তারা অতীতের কষ্ট এবং আনন্দের সময় গুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এবং এখান থেকে আহরিত গ্রাম তাদের নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করতে পারবে।

৩. পরিবর্তন সম্পর্কে আমাদের শিখতে সাহায্য করে ইতিহাস

মানব সভ্যতার ইতিহাস পরিবর্তনশীল। আমরা আজ আধুনিক বিশ্বে বসবাস করি। আজকাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনধারায় এতটা কল্যাণ সাধিত হয়েছে যে, আমরা প্রয়োজনীয় যে কোন কঠিন এবং সহজ কাজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদন করতে পারি।

বর্তমান যুগে মানুষ আকাশ পথে চলাচল করতে পারছে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় কারণে।

এছাড়া বিশ্বের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মুহূর্তের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। এমনকি বর্তমানে মহাকাশচারীরা মহাকাশযানে চড়ে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছে।

কিন্তু আমরা এটা জানি যে, এমন একদিন ছিল যেদিন মানুষ প্রথম আগুন জালানো শিখেছিল। পাথরের সাথে পাথর ঘষে আগুন জ্বালিয়ে ছিল।

তাহলে সেকালের মানব সভ্যতা এবং বর্তমানের মানব সভ্যতার মধ্যে কতটা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তা আমরা এখন দেখতেই পারছি।

বিশ্বসভ্যতার এই বিরাট বিবর্তনের পিছনে তাদের ভূমিকা রয়েছে তা আমরা ইতিহাস অধ্যায়ন বা পাঠ করার মাধ্যমে জানতে পারি।

৪. ইতিহাস আমাদের নিজেদের পরিচয় জানতে সাহায্য করে

পৃথিবীতে বহু জাতি গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। বর্তমানে আমরা কোথায় বসবাস করছি, কোথা থেকে এসেছি, আমাদের নিজের পরিচয় কি, আমাদের জাতি কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এসব বিষয়ে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি ইতিহাস পড়ার মাধ্যমে।

আমাদের পূর্বপুরুষরা কিভাবে এবং কাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে টিকে ছিলেন এবং আমাদেরকে কিভাবে সুন্দর ভবিষ্যতের পথ দেখিয়েছেন সেগুলোর বিষয়ে আমরা ইতিহাস অধ্যয়নের মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে পারি।

৫. ইতিহাস আমাদের অনুপ্রাণিত করে

আমাদের পূর্বের সময় এর ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামের ঘটনাগুলোতে ব্যক্তিদের মহৎ অবদান আমাদের অনুপ্রাণিত করতে সাহায্য করে।

যারা জাতির আকার পরিবর্তন করতে অবদান রেখেছেন সেই ইতিহাস উজ্জ্বল ব্যক্তিদের এবং তাদের বিরত্বপূর্ণ কাজ গুলোকে স্মরণ করতে আমাদের সাহায্য করে ইতিহাস।

তাদের সেই অবিস্মরণীয় অবদান আমাদের দেশ ও জাতির জন্য মহৎ কিছু করার জন্য উৎসাহিত করে তোলে।

৫. ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি

ইতিহাস হলো সকল উত্থান-পতনের কাহিনীতে ভরা।

ইতিহাস অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আমরা আমাদের অতীতের ভুল গুলো চিহ্নিত করতে পারি এবং সে অনুযায়ী শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।

সকল প্রকার ভুল শুধরিয়ে ভবিষ্যত উন্নতির লক্ষ্যে মহৎ কাজ করে এগিয়ে যেতে পারি।

আমরা কিভাবে ইতিহাস জানতে ও শিখতে পারি ?

ইতিহাস সম্পর্কে যে কেউ যেকোনো সময় জানতে পারে। ইতিহাস বিষয়ক বই গুলো পড়ার মাধ্যমে আমরা ইতিহাসের বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারি।

তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সময় textbook পড়ার মাধ্যমে ইতিহাসের বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা যায় এবং একজন পূর্ণবিকশিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা যায়। মূলত স্কুল থেকেই একজন শিশু ইতিহাসের প্রাণবন্ত রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে।

আমাদের শেষ কথা

তাহলে ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন এ বিষয়ে আশা করি আজকের আর্টিকেলে আপনারা ভালোভাবে জানতে পেরেছেন।

ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যদি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই শেয়ার করবেন।

আর আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোন প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।

অবশ্যই পড়ুন –

Leave a Reply

Your email address will not be published.