ইন্টারনেট কি ? ইন্টারনেটের ইতিহাস এবং ব্যবহার – (Internet in Bengali)

বন্ধুরা আজকের আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা জানবো, ইন্টারনেট কি বা ইন্টারনেট কাকে বলে? (What is Internet in Bangla) ইন্টারনেটের ইতিহাস, ব্যবহার এবং ইন্টারনেটের সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি?

ইন্টারনেট কি

What is Internet in Bengali?

আধুনিক বিশ্ব ইন্টারনেটের বিশ্ব । ইন্টারনেট বিশ্বকে দিয়েছে যােগাযােগ ভাবনার নতুন পথ । ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনাে প্রান্ত থেকে খুব সহজেই তথ্য আদান – প্রদানের কাজটি করা যায় ।

ইন্টারনেট কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করে । নেটওয়ার্কিং সিস্টেম হলাে একের সাথে বহুর মিলন অর্থাৎ এক কম্পিউটার থেকে হাজারাে কম্পিউটারে একই সময়ে একই সজো তথ্য আদান – প্রদানের প্রক্রিয়া।

ইন্টারনেট কি ? (What is Internet in Bengali)

ইন্টারনেট হলাে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সমস্ত কম্পিউটারের মধ্যকার এক জাল । এর মূল কাজ এক নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা কম্পিউটারগুলােকে অন্য সমস্ত নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করা ।

এভাবে সমস্ত নেটওয়ার্ক একত্র হয়ে যে সমন্বিত নেটওয়ার্ক সিস্টেম তৈরি হয়েছে তারই নাম ইন্টারনেট ।

ইন্টারনেটের ইতিহাস – History of Internet

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৯ সালে তার সামরিক প্রয়ােজনে প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার করে । এই সিস্টেমটিকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছিল ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান । প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে তা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে । ১৯৮৪ সালে নেস্ফেনেট নাম নিয়ে সর্বসাধারণের জন্য ইন্টারনেট অবমুক্ত করা হয় । এতে শৃঙ্খলা আনার জন্য একটি স্থায়ী নেটওয়ার্ক গড়ে তােলেন প্রযুক্তিবিদরা । এই সিস্টেমটিই ইন্টারনেট নাম নিয়ে সমস্ত বিশ্বে প্রযুক্তির মশালকে বহন করে চলেছে ।

সোজা ভাবে ইন্টারনেট কাকে বলে ?

Internet এর ফুল ফর্ম হলো Interconnected Networks.

বর্তমান বিশ্বসভ্যতার মূল চালিকাশক্তি ইন্টারনেট । আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রই এর দ্বারা প্রভাবিত । সকালবেলা চায়ের সঙ্গে অনলাইন নিউজের আপডেটটি আমাদের প্রয়ােজন হয়ে দাঁড়ায় । তথ্যই সম্পদ ; আর তথ্য সংগ্রহে ইন্টারনেট অদ্বিতীয় ।

সে কারণে ইন্টারনেট আজ দৈনন্দিন যাপিত জীবনের অগ্রাধিকারের তালিকায় ওপরের দিকে থাকে । সব বয়সের মানুষ আজ ইন্টারনেটের সঙ্গে তাদের জীবনের ছন্দ মিলিয়ে চলে । সামাজিক যােগাযােগ এখন অনেকাংশে ইন্টারনেটনির্ভর । তাতে মানুষকে খানিকটা যান্ত্রিক মনে হলেও মানসিক বিনােদন সেখানে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে । পৃথিবী জুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ৩০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে ।

ইন্টারনেটের ব্যবহার – Uses of Internet

১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বর অফলাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুর হয় । তখন বিষয়টি শুধু ই – মেইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল । বিটিআরসির ল্যান্ডলাইনের মাধ্যমে ডায়ালআপ কানেকশন থেকে তখন ইন্টারনেট ব্যবহার করা হতাে ।

১৯৯৬ সালের ৪ জুন বাংলাদেশে ভিএসএটি চালুর মাধ্যমে প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট চালু করে আইএসএন । এরপর সাইবার নেট , ইউ অনলাইন , ব্রাক বিজিমেইল , প্রস্টোনেট , অগ্নি সিস্টেমসহ বর্তমানে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সার্ভিস প্রােভাইডার হিসেবে কাজ করছে ।

পাথরে পাথরে ঘষা লাগিয়ে মানুষ যেদিন প্রথম আগুন আবিষ্কার করেছিল , সেদিন থেকেই সভ্যতার প্রাচুর্যের সূত্রপাত হয়েছিল । একইভাবে তথ্যের পৃথিবীতে ইন্টারনেট মানুষকে তথ্যপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ করেছে । বাংলাদেশে এই উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে মােবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযােগ প্রাপ্তিতে ।

যেকোনাে সময় যেকোনাে স্থানে স্মার্টফোনের মাধ্যমে মানুষ এখন ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয় । এই প্রযুক্তি দিনকে দিন এত বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে , মােবাইল ফোনে কথা বলা আর ইন্টারনেটের ব্যবহার এখন প্রায় সমান সমান হয়ে এসেছে ।

জিপিআরএস , জিপিএস প্রযুক্তি পেরিয়ে এখন মােবাইল ইন্টারনেট ফোরজি অর্থাৎ চতুর্থ প্রজন্ম প্রযুক্তিতে পৌঁছেছে । ইতােমধ্যে মােবাইল হ্যান্ডসেটগুলােতেও যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে ।

মােবাইল ফোনে কথা বলা ছাড়াও ইন্টারনেটের যাবতীয় কর্মকাণ্ড করা সম্ভব হচ্ছে । গ্রাহকের চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠান গুগল এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম প্রবর্তন করেছে ।

মােবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অধিকাংশই এখন এই অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে পরিচিত । এছাড়াও আইফোন , উইন্ডোজ ইত্যাদিরও রয়েছে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম।

ইন্টারনেটের সুবিধাগুলো কি কি ?

ইন্টারনেটের ব্যবহারও যেমন বহুমুখী , তেমনি এর গুরুত্বও বহুমুখী । এখন ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করেই মানুষ তার নানাবিধ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজায় । শিক্ষা , স্বাস্থ্য , ব্যবসা , সামাজিকতাসহ প্রায় সবখানেই ইন্টারনেট অপরিহার্য ।

ই – এডুকেশন , ই – কমার্স ইন্টারনেটকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে । তথ্য সংগ্রহে পৃথিবীর তাবৎ কর্মযােগীরা ইন্টারনেটকে আশ্রয় করেছে । ঘরে বসে শিক্ষা বা কেনাকাটা এখন নিত্যদিনের ব্যাপার ।

দুরারােগ্য রােগ নিরাময়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা এখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চমৎকার সব সমাধান দেন । তাতে মানুষের অর্থ ও সময় দুই – ই সাশ্রয় হয় । বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ছেলেমেয়েরা আজ ইন্টারনেটের মাধ্যমেই বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্কলারশিপগুলাে আয়ত্ত করে ।

ইন্টারনেট এর ফলে পরবর্তী প্রজন্মের মানুষ হবে আরও চৌকস ও বুদ্ধিমান । তাদের কাছে ইন্টারনেট হয়তাে আরও অনেক নতুন দিক খুলে দেবে ।

ইতােমধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার লেন সংযুক্ত হয়েছে । এর আওতায় পুরাে দেশ এলে ইন্টারনেটের গতি বাড়বে , খরচ কমবে । মানুষ তখন আরও প্রযুক্তিমুখী হবে । তবে প্রযুক্তিকে মানুষের সর্বময় কল্যাণে ব্যবহার করা একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে ।

ইন্টারনেটের অসুবিধা: ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে কি কি ক্ষতি হতে পারে

ইন্টারনেটের অসংখ্য ভালাে দিকের পাশাপাশি এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে । ইন্টারনেটের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করে অনেকেই সময় নষ্ট করে । এছাড়াও কুরুচিপূর্ণ গান , ভিডিও ইত্যাদির কারণে বিপথগামী হচ্ছে তরুণদের একাংশ । অসাধু ব্যক্তিরা ইন্টারনেট ব্যবহার করছে তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য ।

শেষ কথা,,

বিজ্ঞানের এ যুগে মানুষ প্রযুক্তিমুখী হয়ে তার কর্মদক্ষতাকে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করছে । এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে । তবে প্রযুক্তির এ দৌড়ে মানুষকে মানবিক হয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার সারতে হবে । তবেই ইন্টারনেট নামক প্রযুক্তির বিপ্লব পরিপূর্ণতা পাবে । বাস্তব রূপ লাভ করবে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *