Skip to content

এসিড বৃষ্টি কি ? এসিড বৃষ্টি কেন হয় – (Acid rain)

এসিড বৃষ্টি কি: আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা এসিড বৃষ্টি কাকে বলে, এসিড বৃষ্টি কেন হয় এবং এসিড বৃষ্টি কিভাবে তৈরি হয় এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানব।

এসিড বৃষ্টি কি

এসিড বৃষ্টি কাকে বলে?

এসিড বৃষ্টি কি ? (What Is Acid Rain In Bengali)

সাধারণত বৃষ্টিপাত এসিডিক হয়। তবে যখন বৃষ্টিতে অনেক বেশি পরিমাণ এসিড বিদ্যমান থাকে, তখন তাকে এসিড বৃষ্টি বলে।

এসিড বৃষ্টিতে কী কী এসিড থাকে?

এসিড বৃষ্টিতে সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড বেশি থাকে এবং অল্প পরিমাণে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে। এসিড বৃষ্টি পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে। এমনকি এসিডের প্রতি সংবেদনশীল অনেক গাছ মরে যায়।

এছাড়া কিছু অতি প্রয়োজনীয় উপাদান (যেমন, Ca, Mg) এসিড বৃষ্টিতে দ্রবীভূত হয়ে মাটি থেকে চলে যায় যা ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

এসিড বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পানিসম্পদ ও জলজ প্রাণীসমূহের। আমরা জানি যে, পানিতে এসিড থাকলে pH মান ৭ এর চেয়ে কম হয়।

পানির pH এর মান ৫ এর কম হলে বেশির ভাগ মাছের ডিম নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মাছ উৎপাদন ব্যাহত হয়। মাছের রেণু বা পোনা এসিডের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

এসিডের মাত্রা বেশি হলে পুরো জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মানুষের শরীরের জন্যও এসিড বৃষ্টি ক্ষতিকর।

মানবদেহে হূৎপিন্ড ও ফুসফুসের সমস্যা, অ্যাজমা ও ব্রঙ্কাইটিসের মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে এসিড বৃষ্টি।

সোজা ভাবে, এসিড বৃষ্টি কাকে বলে?

অবিশুদ্ধ জালানি দহনের ফলে উৎপন্ন সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ট্রাই অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসসমূহ বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড উৎপন্ন করে এবং ঐ এসিড বৃষ্টির পানির সাথে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়, এরূপ এসিড মিশৃত বৃষ্টিকে এসিড বৃষ্টি বলে।

এসিড বৃষ্টি কেন হয়?

এসিড বৃষ্টি সৃষ্টির জন্য প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট কারণ জড়িত। প্রাকৃতিক কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, দাবানল, বজ্রপাত, গাছপালার পচন ইত্যাদি।

এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসৃত হয়, যা পরে বাতাসের অক্সিজেন ও বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়া করে যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড তৈরি করে।

একইভাবে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বিশেষ করে কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা অন্যান্য শিল্প কারখানা, যানবাহন, গৃহস্থালির চুলা ইত্যাদি উৎস থেকেও সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হয়, যা এসিডে পরিণত হয় এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি তৈরি করে।

এসিড বৃষ্টি হলে কী কী করণীয় আছে?

যেহেতু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লা থেকে নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, সেহেতু কয়লা পরিশোধন করে সালফার ও নাইট্রোজেন মুক্ত করে ব্যবহার করতে হবে।

উন্নত বিশ্বে ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থা চালু আছে।

পরিশোধন ব্যবস্থা না থাকলে কালার পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা যেতে পারে। এসিড বৃষ্টি হলে মাটির pH কমে যায় এবং সেক্ষেত্রে লাইমস্টোন বা চুনাপাথর ব্যবহার করে এসিডিটি নষ্ট করা হয়।

এছাড়া শিল্প কারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত ধোয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। শিল্প কারখানায় দূষণ রোধক পদ্ধতি অবশ্যই বাধ্যতামূলক করতে হবে।

তবে, আমাদের দেশে এসিড বৃষ্টি খুব একটা হয় না। যেসব দেশ শিল্প কারখানায় অনেক উন্নত, সেখানে এর আশঙ্কা অনেক বেশি। পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশ, অ্যামেরিকা, কানাডা এবং চীনের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে ও তাইওয়ানে ঘন ঘন এসিড বৃষ্টি হয়।

আশা করি এসিড বৃষ্টি কি, এসিড বৃষ্টি কেন হয় এবং এসিড বৃষ্টি কিভাবে তৈরি হয় এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.