ক্ষার কি ? ক্ষারের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহার, ধর্ম এবং উদাহরণ

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারের ব্যবহার ও সাবধানতা

ক্ষার কি

ক্ষার কি?

তোমরা কি জান, মৌমাছি ফুল ফুটলে পিপড়া । পিপড়া কামড় দিলে জ্বলে কেন, ফুলে যায় কেন ? কারণ হলো , পিপড়ার কামড়ের মাধ্যমে মূলত ফরমিক এসিড নিঃসৃত হয় , যা আমাদের শরীরে জ্বালা – পােড়া সৃষ্টি করে ।

আর মৌমাছি হুল ফুটালে ফরমিক এসিড , মেলিটিন (Melitin) ও অ্যাপামিন (Apamin) নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয় , যার কারণে জালা পােড়াও হয় আবার আক্রান্ত স্হান ফুলেও যায় ।

এখন প্রশ্ন পিপড়া কামড়ালে বা মৌমাছি হুল ফুটালে করণীয় কী ? যেহেতু এসব ক্ষেত্রে জ্বালা – পােড়ার কারণ হচ্ছে এসিড , তাই আমরা এসিডকে নিক্রিয় করতে পারে এরকম মলম , লােশন বা চুন ব্যবহার করতে পারি ।

এরকম একটি লােশন হলাে ক্যালামিন ( Calamine ) , যা মূলত জিংক কার্বোনেট ( ZnCO3 ) ।

বেকিং সোডা ব্যবহার করেও ভালাে ফল পাওয়া যায় ।

মাটির এসিডিটি দূর করতে ক্ষার

তােমরা আগেই জেনেছ , মাটিতে এসিডিটি বাড়লে উর্বরতা নষ্ট হয় । তখন ক্ষারক ব্যবহার করে এসিডিটিকে প্রশমিত করা যায় ও উর্বরতা ফিরিয়ে আনা যায় । এক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ক্ষারক হলাে চুন (CaO) এবং মিল্ক অব লাইম Ca(OH)2 ।

অবশ্য এ কাজে চুনাপাথরও CaCO3  ব্যবহার করা হয় । বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামােনিয়াম হাইক্সাইড বহুল ব্যবহৃত হয় ।

টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার আমাদের নিত্যদিনের একটি অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় বস্তু , যা ক্ষারীয় । খাওয়ার পরে সাধারণত আমাদের মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয় ।

আর টুথপেস্ট বা পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলে একদিকে যেমন দাত পরিষ্কার হয় , অন্যদিকে তেমনি পেস্ট বা পাউডারের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে ।

ফলে দাঁতের ক্ষয় রােধ হয় । আবার থালা – বাসন পরিষ্কার করার জন্য যে শক্ত সাবান , তরল সাবান ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় , সেগুলােতেও ক্ষারক থাকে । এমনকি আমরা যে কাপড় কাচার সাবান ব্যবহার করি , তা তৈরি করা হয় সােডিয়াম হাইড্রক্সাইড ও চর্বি বা তৈল থেকে । একইভাবে সেভিং ফোম বা নরম সাবান তৈরি করা হয় পটাসিয়াম হাইড্রক্সাইভ ও চর্বি বা তৈল থেকে ।

তােমরা জান যে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা এসিডিটির কারণে আমরা যে এন্টাসিড খাই তা হলাে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড Al (OH3) নামের ক্ষার ।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে ক্ষারক বা ক্ষারসমূহ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অনেক কাজে লাগে । তাই এগুলাে ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং অপচয় রােধে সবাইকে সচেতন হতে হবে ।

ক্ষার ও ক্ষারক ব্যবহারে সাবধানতা:

তােমরা নিজের হাতে কখনাে নিজেদের জামাকাপড় পরিষ্কার করে দেখেছ কী ঘটে ? একটু বেশি কাপড় একসাথে পরিষ্কার করলে দেখা যায় , হাতের তালু থেকে ছােট ছােট চামড়া উঠে যায় ।

এর জন্য দায়ী হলাে সাবানে থাকা ক্ষার । এসিড যেমন মানুষের শরীরে ছুড়লে ক্ষতি হয় , তেমনি ক্ষারও শরীরের ক্ষতি করে । তাই ক্ষারীয় দ্রব্যাদি নিয়ে কাজ করার সময় হাতে রবারের মােজা ও গায়ে অ্যাপ্রােন পরে নেওয়া উত্তম ।

প্রশমন এবং এর প্রয়ােজনীয়তা

পাকস্থলীর এসিডিটির জন্য পেটের ব্যথা হলে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড বা অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড নামক এন্টাসিড খেলে ব্যথা সেরে যায় কেন ?

কারণ হলাে , এসিডিটির জন্য দায়ী হাইড্রোক্লোরিক এসিডের সাথে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড বা অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইডের প্রশমন বিক্রিয়া ঘটে যার ফলে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিষ্ক্রিয়ক্ষারক ও লবণের ব্যবহার হয়ে যায় এবং ব্যথা আর থাকে না ।

বিক্রিয়াটি নিচে দেখানাে হলাে :

2HCI + Mg (OH)2 – MgCl2 + 2H2O

3HCI + Al (OH)3 – AICl3 + 3H20

আবার চুন (CaO) ও স্ন্যাক লাইম [ Ca (OH)2 ] দিয়ে মাটির যে এসিডিটি দূর করে উর্বরতা বৃদ্ধি করা হয় , সেটিও হয় প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে , যা নিচে দেখানাে হলো ।

Cao + H2SO4 – CaSO4 + H2O

Ca (OH)2 + H2SO4 – CaSO4 + 2H20

তােমরা ইতিমধ্যেই জেনেছ খাওয়ার পরে আমাদের মুখে এসিড তৈরি হয় আর টুথপেস্ট দিয়ে সঁত ব্রাশ করলে এসিডজনিত কারণে দাঁতের ক্ষয়রােধ হয় ।

এখানেও কিন্তু একধরনের প্রশমন বিক্রিয়াই ঘটে । টুথপেস্টের pH সাধারণত ৯-১১ এর মধ্যে হয় অর্থাৎ এরা ক্ষারীয় এবং এতে ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড , বেকিং সােডা , টেট্রাসােডিয়াম পাইরােফসফেট জাতীয় পদার্থ থাকে । তাহলে বলা যাচ্ছে, প্রশমন বিক্রিয়া আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *