Skip to content

জানাজার নামাজের দোয়া, নিয়ম এবং নিয়ত

জানাজার নামাজের নিয়ম, জানাজার নামাজের নিয়ত এবং জানাজার নামাজের দোয়া সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো।

জানাজার নামাজের দোয়া, নিয়ম এবং নিয়ত

জানাজার দোয়া

জানাযার নামাযের বিবরণঃ

নবী করীম (সঃ) বলিয়াছেন, “কোন মুসলমান মুরদার উপর চল্লিশজন মুসলমান (যাহারা আল্লাহ্র সহিত কাহাকেও শরীক করে না) জানাযার নামাজ পড়িলে আল্লাহ্ তায়া’লা তাহাদের দোয়া কবুল করিয়া মৃত লোকটিকে ক্ষমা করিয়া দেন।” কাজেই যত বেশী সংখ্যক লোক জানাযায় শরীক হইবে, ততই মৃতের পক্ষে ভাল হইবে।

জানাযার নামাযের ফরজসমূহ:

জানাযার মধ্যে ফরজ দুইটি।

১। চারবার ‘আল্লাহু আকবর’ বলা,

২। দাঁড়াইয়া জানাযার নামাজ পড়া। বিনা ওযরে না দাঁড়াইয়া নামাজ পড়িলে দুরুস্ত হইবে না।

জানাযার নামাযের সুন্নাতসমূহঃ

জানাযার সুন্নাত তিনটি।

১। আল্লাহ্ তায়া’লার প্রশংসা করা,

২। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর নামে দুরূদ পাঠ করা,

৩। মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা ।

জানাযার জন্য জামায়াত শর্ত নহে। কোনও এক ব্যক্তি জানাযার নামাজ পড়িয়া দিলে ফরজ আদায় হইয়া যাইবে। তবে অধিক সংখ্যক লোক একত্র হইয়া জানাযার নামাজ পড়িয়া আল্লাহ্ তায়া’লার দরবারে মৃতের জন্য দোয়া করিলে উহা শীঘ্র কবুল হইয়া থাকে ।

স্ত্রালোক কিংবা নাবালেগ জানাযা পড়িয়া দিলেও দুরুস্ত হইবে এবং ফরজ আদায় হইবে। স্ত্রী, পুরুষ ও বালক, বালিকা একত্রে জানাযার নামাজ পড়িলেও দুরুস্ত হইবে। এই অবস্থায় পুরুষ, বালক, স্ত্রীলোক ও বালিকা যথাক্রমে পশ্চাতে সারি বাঁধিয়া দাঁড়াইবে । জানাযার নামাজে মাত্র সাতজন মুছল্লী হইলে ইমাম ব্যতীত তিন কাতার করিবে এবং প্রথম কাতারে তিনজন দ্বিতীয় কাতারে দুইজন এবং তীয় কাতারে একজন দাঁড়াইবে।

জানাযার নামায আদায়ের সুন্নত নিয়ম

মৃতের লাশকে উত্তর দিকে মাথা করিয়া সম্মুখে রাখিয়া তাহার বুক বরাবর ইমাম দাঁড়াইবে এবং মুছল্লিগণ যথারীতি ইমামের পিছনে সারি বাঁধিয়া দাঁড়াইবে ।

জানাযার নামাজের নিয়ম:

চার তাকবীরের সঙ্গে জানাযার নামাজ আদায় করতে হয়। ঈদের নামাজে তাকবীর দেয়ার সময় হাত তুলতে হয়, কিন্তু জানাযার নামাজে তাকবীর দেয়ার সময় হাত তোলার প্রয়োজন পড়ে না।

জানাযার নামাজের নিয়ত:

نَوَيْتُ اَنْ اُؤَدِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ تَكْبِيْرَاتِ صَلَوةِ الْجَنَا زَةِ فَرْضَ الْكِفَايَةِ وَالثَّنَا ءُ لِلَّهِ تَعَا لَى وَالصَّلَوةُ عَلَى النَّبِىِّ وَالدُّعَا ءُلِهَذَا الْمَيِّتِ اِقْتِدَتُ بِهَذَا الاِْمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ

জানাজার নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ: “নাওয়াইতু আন উয়াদ্দিয়া লিল্লাহে তায়ালা আরবা আ তাকবীরাতে ছালাতিল জানাজাতে ফারজুল কেফায়াতে আচ্ছানাউ লিল্লাহি তায়ালা ওয়াচ্ছালাতু আলান্নাবীয়্যে ওয়াদ্দোয়াউ লেহাযাল মাইয়্যেতে এক্কতেদায়িতু বিহাযাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতে আললাহু আকবার।”

এখানে নিয়তে ‘লেহাযাল মাইয়্যেতে’ পুরুষ/ছেলে লাশ হলে পড়তে হবে, আর লাশ নারী/মেয়ে হলে ‘লেহাযিহিল মাইয়্যেতে’ বলতে হবে।

জানাযা স্ত্রীলোকের হইলে লিহাযাল মাইয়্যিতি না বলে ‘লিহাযিহিল মাইয়্যিতি’ বলতে হবে।

জানাজার নামাজের বাংলা নিয়ত

আমি আল্লাহর ওয়াস্তে জানাযার ফরযে কেফায়ার নামায চার তাকবীরের সহিত এই ইমামের পিছনে আদায় করছি এবং এই মৃতের জন্য দোয়া করছি। আল্লাহু আকবার ।

জানাজার নামাজের দোয়া

তাকবীরে তাহরীমা

(আল্লাহু আকবর ) الله اكبر

অর্থ : আল্লাহ তাআ’লা মহান

তাকবির তাহরিমা পড়ার পর সানা

সানা

سبحنك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا اله

غيرك .

উচ্চারণ: সোবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবা-রাকা সমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।

অর্থ: হে আল্লাহ ! আমরা তোমারই গুণগান করতেছি। তোমার নাম বরকতময় ; তোমার গৌরব অতি উচ্চ। তুমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই।

দরুদ শরীফ:

للَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ- اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَا هِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদি ওয়া আলা আলি মুম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।

২য় তাকবীরের পর পড়ার দরুদ

সানার পর তাহরীমা না ছেড়ে ইমাম সশব্দে দ্বিতীয় তাকবীর বলবেন এবং মোক্তাদী সকলে চুপে চুপে তাকবীর বলে দুরূদ পড়বেন।

পূর্ণ বয়স্ক লোকের জানাযা হইলে ইমাম সাহেব সশব্দে আর মোক্তাদী চুপে চুপে তৃতীয় তাকবীর বলে নিম্নলিখিত দোআ পড়বে:

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা গফির লি-হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গা য়িবিনা ওয়া সাগীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা, আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহী আলাল ইসলামি ওয়া মান তাওয়াফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহ্ আলাল ঈমানি বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন। এই দোআর পর হাত না উঠায়ে ইমাম সাহেব সশব্দে আর মোক্তাদী চুপে চুপে

চতুর্থ তাকবীর বলবে এবং ডানে বামে সালাম ফিরায়ে নামায শেষ করবে। জানাযা নাবালেগ ছেলের হইলে তৃতীয় তাকবীর এর পর নিম্নের দোআ পড়বে:

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাজআলহু লানা ফারত্বাওঁ ওয়াজআলহু লানা আজরাওঁ ওয়া যুখরাওঁ ওয়াজআলহু লানা শাফিআওঁ ওয়া মুশাফাআ ।

নাবালেগা মেয়ে হইলে তৃতীয় তাকবীর এর পর নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে

উচ্চারণ: আল্লাহু ম্মাজআলাহা লানা ফারুত্বাওঁ ওয়াজ আলহা লানা আজরা ওঁ ওয়া যুখরাওঁ ওয়াজ আলহা লানা শাফিআতাওঁ ওয়া মুশাফফাআহ ।

জানাযায় বিলম্বে শরীক হলে করণীয়

কোন ব্যক্তি জানাযার নামাজে দুই একটি তাকবির শেষ হওয়ার পর আসিলে, এমতাবস্থায় সে অন্যান্য নামাজের মাসবুকের ন্যায় তখনই জানাযায় শামিল হইবে না, বরং ইমামের সর্বশেষ তাকবীরের সময়ে শরীক হইয়া ইমামের সহিত তাকবীর বলিবে! ইহাই সে ব্যক্তির তাক্বীরে তাহ্রীমা।

ইমাম সালাম ফিরানোর পর সে তাহার বাকি তাকবীর গুলো কিছু না পড়িয়া নিজে নিজে আদায় করা। আর যদি সে চতুর্থ তাকবীরের পর এবং ছালাম ফিরাইবার পূর্বে উপস্থিত হন, তাহা হইলে ইমাম সালাম ফিরাইবার পূর্বেই তাড়াতাড়ি জামায়াতে শামিল হইবে এবং ইমামের সালামের পর সে শুধু তাীরগুলি উচ্চারণ করিবে। ইহা ইমাম আবু ইউসুফের (রহ)-এর মত । ॥(দোঃ মোঃ)

একাধিকবার জানাযার নামায আদায় করা

মৃত ব্যক্তির অভিভাবক কর্তৃক আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানাযার নামাজ পড়াইবে। অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত অন্য কেহ (যাহার হক্ নাই) জানাযা পড়াইয়া থাকিলে অভিভাবক ইচ্ছা করিলে দ্বিতীয়বার জানাযা পড়াইতে পারিবে; এমন কি দাফন করিয়া থাকিলেও কবরের উপর জানাযা পড়িতে পারিবে। কিন্তু বাদশাহ বা তাঁহার কোন প্রতিনিধি মৃতব্যক্তির অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত জানাযা পড়াইয়া থাকিলে অভিভাবক দ্বিতীয়বার জানাযা পড়াইতে পারিবে না॥(শামী)

Leave a Reply

Your email address will not be published.