ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা: Digital Bangladesh Essay

আপনি যদি একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা পেতে চাচ্ছেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ এর বিষয়ে একটি সুন্দর রচনা উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা

Digital Bangladesh Rocona.

বর্তমানে আমাদের পৃথিবী হলো প্রযুক্তিনির্ভর। কেননা এখন সকল প্রকার প্রযুক্তি মানুষের হাতের নাগালে রয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যপক উন্নতি সাধিত হয়েছে একবিংশ শতকের এই পৃথিবীতে। ফলে পুরো পৃথিবী একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে বলা যায়।

বিশ্বের সকল দেশ প্রযুক্তির ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। তাই বাংলাদেশও কিন্তু এ দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই।

বাংলাদেশের সকল মানুষের নিকট এখন প্রযুক্তি পৌছে গিয়েছে। ফলে তারা এর ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে দিন দিন উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তাই বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রচুর পরিমাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগনো হচ্ছে।

তাই আপনি যদি সবচেয়ে ভালো একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কিত একটি প্রবন্ধ রচনা খুজছেন তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

নিচে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রবন্ধ রচনাটি দেখে নিন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা

Digital Bangladesh Essay In Bengali.

ভূমিকা

মহান মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বর্তমানে একটি উন্নয়নশীল দেশ। প্রতিষ্ঠার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে গড়ে তোলার সংগ্রাম শুরু হয়। স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিবাহিত হলেও একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এর কারণ হচ্ছে – আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অগ্রসর না হওয়া, নৈতিকতার অভাব, দক্ষ জনশক্তি গড়ে না তোলা, বৈষম্য ইত্যাদি। উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাই সৃষ্টি হয়েছে মন্থরতা। এই মন্থরতা কাটাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে ডিজিটাল পদ্ধতি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ২০২০ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। এ ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমরা বুঝি সারা দেশে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে আধুনিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গতিশীল করে তোলা। দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা একটি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের।

আর সেই রাষ্ট্রটির মূল চালিকাশক্তি হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের জীবনযাত্রার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা গড়ে তোলা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য। ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায়

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। কারণ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের বিস্তার ঘটানোর জন্য একজন শিক্ষক তার শিক্ষণীয় বিষয় কিংবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রদর্শন করতে পারেন। যাতে পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান লাভ করতে পারে।

নিজস্ব বই না থাকলেও, লাইব্রেরিতে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ওয়েবসাইট থেকে খুঁজে নিয়ে তা পড়ে ফেলা যায়। চিকিৎসা ব্যবস্থায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এক নতুন বিস্ময় ও যুগান্তর এনে দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের সাধনায় একদিকে যেমন আবিষ্কৃত হয়েছে নানা জটিল রোগের ওষুধ, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সকল পরীক্ষায় (টেস্ট) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ডাক্তারের কাছে সরাসরি উপস্থিত না হয়েও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করে ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করা যায়।

কৃষিক্ষেত্রে

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কৃষিখাতে প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যেই বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

বিজ্ঞানের বদৌলতে উদ্ভাবিত হয়েছে উন্নত জাতের বীজ, পরিবেশবান্ধব সার ও উচ্চ ফলনশীল প্রজাতির শস্য। অনাবৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাও উদ্ভাবিত হয়েছে। যথার্থ প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী কৃষির উন্নয়নে ভূমিকা পালন করলে এক্ষেত্রে যে আরও সফলতা আসবে সেটি নিশ্চিত করেই বলা যায়।

অফিস আদালতে

বাংলাদেশের অধিকাংশ অফিস আদালতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিরাজ করছে। সেখানে কাজের অত্যন্ত মন্থর গতি আর সর্বক্ষেত্রে ওৎপেতে আছে দুর্নীতির কালো থাবা। অফিসগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একস্থানে বসে প্রশাসনকে গতিশীল, কর্মমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব।

নিরাপত্তা বিধানে

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে এখন অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব। ফলে কোনো দুষ্কৃতকারী অঘটন ঘটিয়ে পার পায় না। তবে এসবের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাদের হাতে থাকে তাদেরও সৎ হতে হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থায়

বর্তমানে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাহায্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বিশেষ করে আকাশপথ এখন কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রহে রকেট উৎক্ষেপণ করা হলে যোগাযোগ থাকছে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাথে। নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সমুদ্র পথও। মুহূর্তের মধ্যে এক দেশের সাথে আরেক দেশের যোগাযোগ স্থাপিত হচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এ ব্যবস্থায় শুধু সারাদেশ নয়, বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা যায়।

প্রকাশনা ও সংবাদপত্র শিল্পে

বই পুস্তকসহ প্রকাশনার সকল ক্ষেত্রে অনেক আগেই আমাদের দেশে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়েছে। আগেকার দিনের মুদ্রণব্যবস্থার কথা ভাবলে সেটি এখন অকল্পনীয় মনে হয়। বর্তমানে দুমাসের কাজ দু’দিনেই করা সম্ভব।

আবার বিভিন্ন প্রকাশনার বই ই বুক আকারে তাদের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাচ্ছে। সংবাদপত্র শিল্পেও কম্পিউটার এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি সংবাদপত্র একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত হচ্ছে। আবার বিদেশি পত্রিকাগুলো আমরা পড়তে পারছি ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

বিনোদনের ক্ষেত্রে

বিনোদন মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিনোদনের ক্ষেত্রে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। খেলাধুলা, সিনেমা ইত্যাদি থেকে শুরু করে নানা ধরনের আনন্দ উপভোগ করা যাচ্ছে কম্পিউটারের মাধ্যমে। খেলা যাচ্ছে নানা ধরনের গেম।

ইউটিউবে বিষয় লিখে সার্চ দিলে মুহূর্তে হাতের নাগালে চলে আসে সবকিছু। সংগীতপ্রিয় মানুষ ইন্টারনেটের সাহায্যে তাদের মনের মতো বাছাইকরা গান উপভোগ করে থাকে। পুরোনো দিনের গান, মুভি সবই পাওয়া যায় এখানে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য কেন্দ্র

তথ্য জানার অধিকার সকল নাগরিকের। এই সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার জন্য সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠা করেছে তথ্যকেন্দ্র। এই কেন্দ্রে নিযুক্ত কর্মকর্তা/অপারেটর চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দিয়ে সহায়তা করে থাকে।

ফলে মানুষকে আগের মতো কোনো কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। কাজে নামার আগে তারা প্রযোজনীয় তথ্য জেনে যায়। এসব তথ্যকেন্দ্র থেকে মানুষ বিভিন্ন ডাটা বা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। জানতে পারবে সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থা ও অবস্থান।

উপসংহার

বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশটিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে হতে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আর উন্নয়ন ঘটাতে হলে কাজের কোন বিকল্প নেই। জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলে তাদের দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। প্রশাসনকে করে তুলতে হবে কার্যকর এবং গতিশীল। অগ্রসর হতে হবে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে। তবেই প্রতিষ্ঠিত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

অবশ্যই পড়ুন –

আশা করি উপরের ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনি যদি এরকম আরও ভালো কোন রচনা পেতে চান তাহলে নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানিয়ে দিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *