তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা অথবা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেব৷

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব
Importance of Information and Communication Technology in Bengali.

কর্মক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা সম্পর্কে আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা বিস্তারিত জেনে নেব৷ তথ্যপ্রযুক্তি কি এ বিষয়ে আমি আপনাদের আগেই বলেছি।

এই আর্টিকেলের শেষে আমরা যা যা জানবো,

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ৷
  • যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভমিকা৷
  • ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুযোগ৷
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব৷
  • চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা৷
  • বিনোদনের ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা।

বর্তমানে আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (Information and Communication Technology) গভীরভাবে জড়িত রয়েছে৷ আমরা আমাদের দৈনন্দিন প্রায় সকল কাজে প্রযুক্তি (technology) র ব্যবহার করে থাকি৷ প্রযুক্তি বা টেকনোলোজির ব্যবহার আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলেছে৷

পূর্বে যেখানে একটি কাজ সম্পন্ন করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো এবং অনেক সময় লেগে যেত এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই কাজ অনেক সহজে এবং খুব কম সময়ে সম্পন্ন করা যায়৷

তাই বর্তমানে ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যপক অবদান রয়েছে৷

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

দিন দিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আমাদের সমাজের ব্যপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বর্তমানে বলতে গেলে আমরা প্রতি মিনিটেই প্রযুক্তির ব্যবহার করছি। সমাজের অগ্রযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা কত বেশি তা সংক্ষিপ্ত আকারে বলা মুশকিল।

বিশ্বের যে সকল দেশ সবচেয়ে বেশি উন্নত তাদের প্রযুক্তির ব্যবহার সবেচেয়ে বেশি। এখন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও আইসিটির বহুমুখী ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাই এখন বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হচ্ছে। একুশ শতকের সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান। যার অর্থ কৃষি, খনিজ সম্পদ কিংবা শক্তির উৎস নয়, শিল্প কিংবা বাণিজ্যও নয়, এখন পৃথিবীর সম্পদ হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এখন আমাদের প্রয়োজনীয় সকল কাজের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারে যথেষ্ঠ দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। তাছাড়া ভবিষ্যত পৃথিবীর অগ্রযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়।

একজন শিক্ষার্থী যতক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত না হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, সংযোজন করে নতুন তথ্য সৃষ্টি করতে পারবে না।এই দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে সে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জ্ঞান ভিত্তিক সমাজে স্থান করে নিতে পারবে না।

তাই নিচে আমি টেকনোলোজি ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি৷

কর্মসংস্থানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে একজন কর্মী অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই স্বল্প কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।

  • বিভিন্ন কারখানার বিপজ্জনক কাজগুলো মানুষের পরিবর্তে রোবট কিংবা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে।
  • কর্মস্থলে কর্মীদের উপস্থিতির সময়কাল, তাদের বেতন, ভাতাদি ইত্যাদি হিসাব করার জন্য বেশ কিছু কর্মীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু ষয়ংক্রিয় উপস্থিতি যন্ত্র, বেতন, ভাতাদি হিসাবের সফটওয়্যার ইত্যাদির ব্যবহারের মাধ্যমে এ সকল কাজ সম্পন্ন করা যায়।
  • বিভিন্ন গুদামে মালামাল সুসজ্জিত করার কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায়।
  • টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে পৃথক জনবলের প্রয়োজন হয় স্বয়ংক্রিয় ইন্টারেকটিভ ভয়েস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিন রাত যেকোনো সময় গ্রাহকের নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দেওয়া যায়।
  • ব্যাংকের এটিএম এর মাধ্যমে যেকোনো সময় নগদ অর্থ তোলা যায়।

অন্যদিকে আইসিটির কারণে অনেক কাজের ধরন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে –

  • পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য নিজেকে ক্রমাগত দক্ষ করে তুলতে হয়। ফলে দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।
  • কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক ধরনের কাজ ঘরে বসেই করা সম্ভব হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কাজে বিশেষ দক্ষতা না থাকলে যে কাজ সম্পন্ন করা যেত না, এরূপ অনেক কাজ কম্পিউটারের সহায়তা সহজে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। যেমন ফটোগ্রাফি (photography) বা ভিডিও এডিটিং (video editing)।
  • অনেকে ঘরে বসে কাজ করছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন ভার্চুয়াল (virtual) প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানে সহায়ক কর্মীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি তাদের কাজের ধরনও পাল্টে গেছে।
  • স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হওয়াতে কর্মীদের কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

যোগাযোগ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রণোদনা হলো এর মাধ্যমে নিত্যনতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়। ফলে অনেক বেশি কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

জাতীয় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়াও কেবল মোবাইল ফোনের বিকাশের ফলে বাংলাদেশে অনেক সেক্টরে বিপুল পরিমাণ নতুন কর্মের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো,

  • মোবাইল কোম্পানিতে কাজের সুযোগ- দেশের সকল মোবাইল অপারেটর কোম্পানিতে বিপুলসংখ্যক কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। একটি মোবাইল কোম্পানি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিবিষয়ক কোম্পানি।
  • মোবাইল ফোনসেট বিক্রয়, বিপণন ও রক্ষণাবেক্ষণ- দেশের প্রায় ১২ কোটি মোবাইল গ্রাহককে মোবাইল ফোন সেট সরবরাহ, সেগুলোর বিপণন, বিক্রয় এবং পরবর্তীকালে বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য বিপুল পরিমাণ কর্মীর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
  • বিভিন্ন মোবাইল সেবা প্রদান- মোবাইল ফোনে বিল পরিশোধের জন্য দেশে প্রতিনিয়ত বিল পরিশোধ কেন্দ্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সকল কেন্দ্রে যেকোনো মোবাইল গ্রাহক তার মোবাইলের বিল পরিশোধসহ অন্যান্য মোবাইল সেবা গ্রহণ করতে পারে।
  • নতুন খাতের সৃষ্টি- মোবাইলে প্রযুক্তি বিস্তারের ফলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো অসংখ্য নতুন খাতের সৃষ্টি হয়েছে, যার মাধ্যমে অনেক নতুন কর্মপ্রত্যাশীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।

শুধু কর্মসৃজন নয়, কর্মপ্রত্যাশীদের কাজের সুযোগ প্রাপ্তিতেও ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে। পূর্বে যেকোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নোটিশ বোর্ড, বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে সেঁটে দেওয়া হতো। এছাড়া বড় বড় কোম্পানি বা সরকারি কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হতো।

আইসিটি বিকাশের ফলে বর্তমানে ইন্টারনেটে অনেক jobs website চলু করা হয়েছে। এই সকল জব সাইটে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি তাদের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে পারে।

শুধু তাই নয়, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ সাইটেও বিনামূল্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে। ফলে কর্মপ্রত্যাশীদের একটি বিরাট অংশ বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হতে পারেন। এছাড়া এরূপ কোনো সাইটে কর্মপ্রত্যাশীগণ নিজেদের নিবন্ধিত করে রাখতে পারেন।

সেক্ষেত্রে, যেকোনো নতুন কাজের খবর প্রকাশিত হওয়ামাত্রই নিবন্ধিত ব্যক্তি ই মেইল বা এসএমএস এর মাধ্যমে এ সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন।

ইন্টারনেট থেকে ঘরে বসে আয়ের সুযোগ

বর্তমানে ইন্টারনেট থেকে যেকেউ চাইলে ঘরে বসে আয় করতে পারেন। তবে এজন্য প্রয়োজন যথেষ্ট দক্ষতা এবং চেষ্টা।

ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করার অনেক উপায় রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। যেমন,

  • ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং করে আয়
  • অনলাইন ব্লগ থেকে টাকা আয়
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
  • ডিজিটাল মার্কেটিং করে আয়
  • কনটেন্ট রাইটিং করে আয়
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন করে আয়
  • ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা আয়

বর্তমানে অনলাইন ইনকাম বলতে সকলেই বুঝে থাকেন ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং কে। ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসে আয় করাটা সকলের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

যে সকল ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে কাজ করে আয় করা যায় সেগুলো হলো,

  • Freelancer.com
  • Upwork.com
  • Fiver.com
  • Peopleperhour.com
  • Elance.com

বাংলাদেশের মুক্ত পেশাজীবীগণ এ সকল ব্যবহার করে অনলাইনে কাজ পেতে সক্ষম হচ্ছেন। আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দেখুন ঘরে বসে টাকা আয় করার জনপ্রিয় উপায়গুলো

যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা

যোগাযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা

বর্তমানে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম। কিছু বছর পূর্বেও একজন মানুষ আরেকজন এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার কাছে যেতে হতো কিংবা চিঠি পাঠাতে হবে এবং সেই চিঠি তার কাছে পৌঁছতে কয়েকদিন সময় লেগে যেতো।

কিন্তু এখন মানুষ নিমিষের মধ্যে একজনের সাথে আরেকজনের যোগাযোগ করতে পারে। এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো মোবাইল ফোন এবং টেলিফোন।

এখন যে কোন মানুষ মোবাইল ফোনে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং এটি সম্ভব হয়েছে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য। শুধু দেশের মানুষের সাথেই নয় পৃথিবীর যেকোনো দেশের মানুষের সাথে কিংবা আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব।

মোবাইল ফোন এর পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত দুইটি পদ্ধতি হলো ইমেইল এড্রেস এবং সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।

কয়েকটি অক্ষর ও বিশেষ চিহ্ন দিয়ে একটি ইমেইল এড্রেস তৈরি হয় এবং এটি দিয়ে পৃথিবীর যেকোন জায়গা থেকে যেকোনো মানুষের যোগাযোগ করতে পারে। পৃথিবীর মানুষের ভেতর এখন যোগাযোগের বেশিরভাগই হয়ে থাকে ইমেইলের মাধ্যমে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অন্যতম একটি বিষয় হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আজকাল সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে একজন একই সময়ে অনেকের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, এমনকি সংঘটিত হয় দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে।

শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

শিক্ষায় বিশেষ করে বিজ্ঞান শিক্ষায় আমাদের নানা ধরনের পরীক্ষা বা এক্সপেরিমেন্ট করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি কীভাবে করা যায় তার একটি কাল্পনিক (Virtual) প্রদর্শন করা সম্ভব।

এই বিষয়গুলো ব্যক্তিগতভাবে একজন বা একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সম্মিলিতভাবে গড়ে তোলা জ্ঞানভাণ্ডার ইন্টারনেটে রয়েছে।

দেখুন ওয়েব পেজ কাকে বলে

এ মুহূর্তে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। কোনো ছাত্র বা ছাত্রী পড়ালেখা করতে করতে কোনো একটা বিষয় বুঝতে না পারলে সে যদি ইন্টারনেটে সেটি অনুসন্ধান করে মোটামুটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় সে তার উত্তরটি কোনো না কোনোভাবে পেয়ে যাবে। একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় শিখতে চায় কিংবা জানতে চায় সে ইন্টারনেটে তা খুঁজে বের করে নিতে পারবে। এজন্যে তারা জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন Google ব্যবহার করতে পারেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি গণিতের অত্যন্ত চমৎকার কিছু সাইট রয়েছে যেখানে গণিতের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানের পরীক্ষা নিরীক্ষা হাতে কলমে দেখার জন্যেও সাইট রয়েছে।

উৎসাহী মানুষেরা নানা বিষয়ে গ্রুপ তৈরি করে রেখেছেন, তাদের কাছে যেকোনো প্রশ্ন দেওয়া হলে তারা উত্তর দিতে পারেন। বাংলায় শিক্ষা দেয়ার জন্যেও ইন্টারনেটে অত্যন্ত চমৎকার কিছু সাইট রয়েছে। ইন্টারনেটে শিক্ষার একটা বিশাল জগৎ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। যখন আমরা সেটি আবিষ্কার করতে শুরু করব তখন সম্পূর্ণ নতুন একটি জগৎ আমাদের সামনে হাজির হবে।

বাংলায় যে কোন বিষয়ে শেখার জন্য জনপ্রিয় একটি সাইট হলো 10 Minute School

শুধু তাই নয় বর্তমানে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ই লার্নিং এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টের ব্যবহার করে শিক্ষাদানের ফলে বইয়ের বিভিন্ন বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের পর্দায় ভালোভাবে দেখানো হয়। ফলে ছাত্র ছাত্রীরা বিভিন্ন বিষিয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে পারেন।

এছাড়াই জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় যেকোন বিষয়ে জানার জন্য ভিডিও পেতে পারেন এবং ভিডিও দেখে তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

সুতরাং শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ব্যবসা বাণিজ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা

ব্যবসা বাণিজ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা

এখন ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যপক ব্যবহার লক্ষ করা যায়। যেমন কোন একটি কোম্পানির হিসাব রাখার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়৷ কম্পিউটারের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় পণ্যের হিসাব কিতাব রাখা যায়। প্রয়োজনে যেকোন কোম্পানির নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করা থাকে এবং এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ব্যবসা বাণিজ্যে লেনদেন করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন বর্তমানে যেকোন ব্যবসার ক্ষেত্রে ই কমার্স কথাটি জড়িত রয়েছে।

এর ফলে ক্রেতারা ঘরে বসেই তাদের পছন্দের পণ্য অর্ডার করতে পারেন এবং কিনতে পারেন। আর পণ্যের বিল পরিশোধ মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবা গুলোর মাধ্যমে করতে পারেন।

আর বর্তমানে যে কোন ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কেটিং করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা একটি কোম্পানি তাদের ব্যবসার মার্কেটিং করার মাধ্যমে তাদের প্রোডাক্ট বা পণ্যের বিজ্ঞাপন গ্রাহকদের নিকট পৌছে দিতে পারেন।

যেহেতু বর্তমানে সকল ব্যবসা বাণিজ্য অনলাইন বা ইকমার্স নির্ভর হয়ে পড়ছে। তাই ব্যবসার মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের প্রচুর ব্যবহার করা হচ্ছে।

কেননা ইন্টারনেটে সবসময় প্রচুর পরিমাণে মানুষ সক্রিয় থাকেন। যদি ইন্টারনেটে কোন একটি কোম্পানির বিজ্ঞাপন ইন্টারনেটে দেওয়া হয় তাহলে ইন্টারনেটে সক্রিয় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি সেই বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন এবং কোম্পানি সম্পর্কে ধারণা পান। ফলে সেই ব্যবসার দ্রুত প্রসা ঘটতে থাকে।

তাই অনলাইনে মার্কেটিং এর মাধ্যমে প্রচুর ক্রেতা সহজেই পাওয়া যায় এজন্য যেকোন ফিজিক্যাল ব্যবসার তুলনায় অনলাইন ব্যবসা বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়।

আর এই সুবিধাটি সম্ভব হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে। তাই ব্যবসা বাণিজ্যে তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

চিকিৎসার কাজে বর্তমানে প্রযুক্তির বহুল ব্যবহার করা হয়। কেননা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজকাল অনেক জটিল রোগ নির্ণয় করা অনেক সহজ৷ ফলে এর যথাযথ চিকিৎসা করা সম্ভব হয় এবং রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে অনেক জটিল জটিল অপারেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা হয়ে থাকে।

এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি ইত্যাদি করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যপক ব্যবহার রয়েছে। তাই চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম।

বিনোদনের ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে বিনোদনের জগতে একটা নত ঘটেছে দুইভাবে।

প্রথমত, বিনোদনটি কীভাবে মানুষ গ্রহণ করবে সেই প্রক্রিয়াটিতে একটা মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, বিনোদনের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমগুলোতে একটা গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। দেখা যাক বিনোদন গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনটি কীভাবে ঘটেছে।

একটা সময় ছিল যখন বিনোদনের জন্য মানুষকে ঘরের বাইরে যেতে হতো। সিনেমা দেখতে হলে সিনেমা হলে যেতে হতো, খেলা দেখতে হালে খেলার মাঠে যেতে হতো, গান শুনতে হলে গানের জলসায় যেতে হতো।

এখন এধরনের বিনোদনের জন্যে মানুষের আর ঘর থেকে বের হতে হয় না। প্রথমে রেডিও, তারপর টেলিভিশন এসেছে।

তারপর এসেছে কম্পিউটার। একসময় কম্পিউটার সংযুক্ত হয়েছে ইন্টারনেটের সাথে। আমরা আবিষ্কার করেছি একজন মানুষ চার দেওয়ালের ভেতরে আবদ্ধ থেকেই পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের বিনোদন উপভোগ করতে পারে। প্রথম যখন কম্পিউটার আবিষ্কার হয়েছিল তখন তার মূল কাজ ছিল কমপিউট বা হিসাব করা, শুধু বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা সরকার একটা কম্পিউটারের মালিক হতে পারত।

প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কম্পিউটার সহজলভ্য হয়ে এসেছে এবং একসময় মানুষ তার নিজের ব্যক্তিগত কাজের জন্যে কম্পিউটার ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

কম্পিউটার যখন শক্তিশালী হয়েছে তখন এটি শুধু লেখালেখি বা হিসাব নিকাশের জন্যে ব্যবহৃত না হয়ে ধীরে ধীরে বিনোদনের জন্যে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। এখন সাধারণ মানুষ কম্পিউটারকে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে বিনোদনের জন্যে।

গান, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র সবকিছুই এখন কম্পিউটার দিয়ে করা যায়। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে বিনোদন গ্রহণের প্রক্রিয়াটিতে যেরকম পরিবর্তন এসেছে ঠিক সেরকম পরিবর্তন এসেছে বিনোদনের বিষয়গুলোতে। সঙ্গীতকে ডিজিটাল রূপ দেওয়ায় এখন আমরা কম্পিউটারে গান শুনতে পারি। ঠিক একইভাবে আমরা ভিডিও বা চলচ্চিত্র দেখতে পারি।

সিডি রম কিংবা ডিভিডি বেরফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বসানোর পর দ্রুতগতির ইন্টারনেট সহজলভ্য হতে শুরু করেছে। কাজেই এখন একজনকে আর গান শোনার জন্যে কিংবা চলচ্চিত্র দেখার জন্যে অডিও সিডি বা ডিভিডির উপর নির্ভর করতে হয় না।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে সরাসরি গান বা চলচ্চিত্র উপভোগ করা সম্ভ হচ্ছে। শুধু তাই নয় রেডিও বা টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে শোনা ও দেখা যায় এবং সেগুলো অনেক সময়েই রেকর্ড করা থাকে বলে কাউকেই আর কোনো কিছুর জন্যে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয় না, যখন যেটি দেখার ইচ্ছে করে তখনই সেটা দেখতে পারে।

শেষ কথা

আশা করি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব এবং ব্যবহার সম্পর্কে আমার এই আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব সমূহ এই আর্টিকেলে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি।

যদি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন।

Abu Shafiq

আমি সফিক। আমি রংপুর বিভাগে থাকি। বর্তমানে বিজ্ঞান বিভাগের একজন স্টুডেন্ট। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি আমার ব্লগে কনটেন্ট লিখি। এটি আমার বাংলা ব্লগ। কনটেন্ট লিখার মাধ্যমে আমার অভিজ্ঞতা পাঠকদের সাথে শেয়ার করে থাকি। এছাড়াও আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে যুক্ত রয়েছি।

Leave a Reply