নবায়নযোগ্য শক্তি কাকে বলে ? এর প্রকার, উৎস, সুবিধা এবং অসুবিধা

নবায়নযোগ্য শক্তি কি বা নবায়নযোগ্য শক্তি কাকে বলে (What is Renewable Energy in Bengali), নবায়নযোগ্য সম্পদ কাকে বলে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রকার, উৎস, সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো।

নবায়নযোগ্য শক্তি কাকে বলে
নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে কি বোঝায় ?

নবায়নযোগ্য শক্তি কাকে বলে ?

আলো থেকে, শুধু যে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের শক্তির ওপর মানুষ ভরসা করে আছে তা নয়, এই মুহূতেও তারা এমন শক্তির ওপর ভরসা করে আছে, যেগুলো ফুরিয়ে যাবে না।

সেই শক্তি আসে সূর্যের সমুদ্রের জোয়ার – ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে।

আমাদের বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না যে এই শক্তিগুলো বলতে গেলে অফুরন্ত। এগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য (Renewable Energy) শক্তি অর্থাৎ যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়,  যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাবার কোনো আশঙ্কা নেই।

এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি।

যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে। তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে।

নবায়নযোগ্য শক্তি কি ? (What is Renewable Energy in Bangla)

শক্তি দুই প্রকার। একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তি।

নবায়নযোগ্য শক্তি হচ্ছে এমন এক ধরনের শক্তি যা অনবরত প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং যা নিঃশেষ হয়ে যায় না। এই ধরনের শক্তি হচ্ছে অধিক পরিবেশ বান্ধব এবং এখানে দূষণের সুযোগ কম থাকে।

সৌরশক্তি , জলবিদ্যুৎ শক্তি , জীবাশ্ম জ্বালানী , সমুদ্র শক্তি ইত্যাদি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি।

নবায়নযোগ্য শক্তি হচ্ছে অসীম। এদেরকে প্রায় বিনা খরচে পাওয়া যায়। এরা অনবায়নযোগ্য শক্তির চেয়ে কম ব্যয়বহুল।

অধিকাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে সূর্য থেকে আসে।

সূর্যালোক বা সৌরশক্তি ঘর গরম এবং আলোকিত করার কাজে , বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবং বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তাহলে নবায়নযোগ্য শক্তি কাকে বলে বা নবায়নযোগ্য সম্পদ কাকে বলে এ বিষয়ে আশা করি আপনারা জানতে পেরেছেন।

নবায়নযোগ্য শক্তির প্রকার, উৎস, উদাহরণ এবং সুবিধা – অসুবিধা সমূহ

জলবিদ্যুৎ:

পৃথিবীর পুরো শক্তির পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। সেই এক ভাগের বেশির ভাগ হচ্ছে জলবিদ্যুৎ , নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা।

নদীর পানি যেহেতু ফুরিয়ে যায় না তাই এ রকম বিদ্যুৎকেন্দ্রের শক্তির উৎসও ফুরিয়ে যায় না। এটা হচ্ছে প্রচলিত ধারণা।

কিন্তু নদীতে বাঁধ দেওয়া হলে পরিবেশের অনেক বড় ক্ষতি হয় , সে কারণে পৃথিবীর মানুষ অনেক সতর্ক হয়ে গেছে। যাদের একটু দূরদৃষ্টি আছে তারা এ রকম জলবিদ্যুৎকেন্দ্র আর তৈরি করে না।

বায়োমাস:

জলবিদ্যুতের পর সবচেয়ে বড় নবায়নযোগ্য শক্তি আসে বায়োমাস (Biomass) থেকে , বায়োমাস বলতে বোঝানো হয় লাকড়ি , খড়কুটো এসবকে।

পৃথিবীর একটা বড় অংশের মানুষের কাছে তেল , গ্যাস , বিদ্যুৎ নেই , তাদের দৈনন্দিন জীবন কাটে লাকড়ি , খড়কুটো জ্বালিয়ে।

এই দরিদ্র মানুষগুলোর ব্যবহারিক শক্তি পৃথিবীর পুরো শক্তির একটা বড় অংশ। যদিও শুকনো গাছ খড়কুটো পুড়িয়ে ফেললে সেটা শেষ হয়ে যায়।

তারপরও বায়োমাসকে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বলার কারণ নতুন করে আবার গাছপালা জন্মানো যায়।

তেল , গ্যাস বা কয়লার মতো পৃথিবী থেকে এটা চিরদিনের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায় না।

নবায়নযোগ্য শক্তির এই দুটি রূপ, জলবিদ্যুৎ আর বায়োমাসের পর গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎসগুলো হচ্ছে সৌরশক্তি , বায়ুশক্তি , বায়ো ফুয়েল আর জিওথার্মাল।

সৌরশক্তি:

শুনে অনেকেই অবাক হয়ে যাবে , মাত্র এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় সূর্য থেকে আলো তাপ হিসেবে প্রায় হাজার মেগাওয়াট শক্তি পাওয়া যায় , যেটা একটা নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রের কাছাকাছি।

সূর্য থেকে আসা আলো আর তাপের একটা অংশ বায়ুমণ্ডলে শোষিত হয়ে যায় , রাতের বেলা সেটা থাকে না , মেঘ বৃষ্টির কারণে সেটা অনিয়ন্ত্রিত।

তা ছাড়াও শক্তিটা আসে তাপ কিংবা আলো হিসেবে , বিদ্যুতে রূপান্তর করার একটা ধাপ অতিক্রম করতে হয়। তারপরও বলা যায় এটা আমাদের খুব নির্ভরশীল একটা শক্তির উৎস।

সূর্যের তাপকে ব্যবহার করে সেটা দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে সেটাকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করা।

আজকাল পৃথিবীর একটা পরিচিত দৃশ্য হচ্ছে সোলার প্যানেল , বাসার ছাদে লাগিয়ে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিজের বাসায় তৈরি করে নেয়।

বায়ুশক্তি:

সৌরশক্তির পরই যেটি খুব দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে ফেলছে সেটা হচ্ছে বায়ুশক্তি।

আমাদের দেশে আমরা এখনো বায়ু বিদ্যুতের বিশাল টারবাইন দেখে অভ্যস্ত নই কিন্তু ইউরোপের অনেক দেশেই সেটা খুব পরিচিত একটা দৃশ্য।

যেখানে বায়ু বিদ্যুতের বিশাল টারবাইন বসানো হয় , সেখান থেকে শুধু একটা খাম্বা উপরে উঠে যায় , তাই মোটেও জায়গা নষ্ট হয় না , সেজন্য পরিবেশবাদীরা এটা খুব পছন্দ করেন।

একটা বায়ু টারবাইন থেকে কয়েক মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব!

বাতাস ব্যবহার করে যে শক্তি তৈরি করা হয় প্রতিবছর তার ব্যবহার বাড়ছে প্রায় ত্রিশ শতাংশ , এই সংখ্যাটি কিন্তু কোনো ছোট সংখ্যা নয়।

বায়োফুয়েল:

পৃথিবীর মানুষ বহুদিন থেকে পান করার জন্য অ্যালকোহল তৈরি করে আসছে।

সেটা এক ধরনের জ্বালানি ভুট্টা , আখ এ ধরনের খাবার থেকে জ্বালানির জন্য অ্যালকোহল তৈরি করা মোটামুটি একটা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

রান্না করার জন্য আমরা যে তেল ব্যবহার করি সেটা ডিজেলের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়। পৃথিবীতে অনেক ধরনের গাছপালা আছে যেখান থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল পাওয়া যায়।

পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে , অনেক দেশই (যেমন ব্রাজিল) এ ধরনের বায়োফুয়েল বেশ বড় আকারে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

ভূতাপীয়:

নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি হচ্ছে ভূতাপীয় বা জিওথার্মাল (Geothermal) শক্তি।

আমাদের পৃথিবীর ভেতরের অংশ উত্তপ্ত অগ্নেয়গিরি দিয়ে যখন সেটা বের হয়ে আসে তখন আমরা সেটা টের পাই।

তাই কেউ যদি কয়েক কিলোমিটার গর্ত করে যেতে পারে তাহলেই তাপশক্তির একটা বিশাল উৎস পেয়ে যায়।

প্রক্রিয়াটা এখনো সহজ নয় , তাই ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয়নি।

কোনো কোনো জায়গায় তার ভূ – প্রকৃতির কারণে যেখানে এ ধরনের শক্তি সহজেই পাওয়া যায় সেখানে সেগুলো ব্যবহার শুরু হয়েছে।

তাহলে নবায়নযোগ্য শক্তি কি বা নবায়নযোগ্য শক্তি কাকে বলে এ বিষয়ে আজকের আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হলো।

আশা করি নবায়নযোগ্য সম্পদ কাকে বলে, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস কি কি, নবায়নযোগ্য শক্তি কত প্রকার এবং নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও অসুবিধা গুলো সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আপনারা জানতে পেরেছেন।

What is Renewable Energy in Bangla? এই আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই শেয়ার করবেন।

You Might Also Like:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *