বর্ণ কাকে বলে ? বর্ণমালা, স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ এবং যুক্তবর্ণ

বর্ণ কাকে বলে

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো বর্ণ , বর্ণমালা, র্স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, যুক্তবর্ণ, সংখ্যাবর্ণ  কাকে বলে? ও উদাহরণ সহ বিস্তারিত।

বর্ণ কাকে বলে?

ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বর্ণ বলে।

বর্ণ কাকে বলে?

ধ্বনির প্রতীককে বর্ণ বলা হয়।

এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার একাধিক সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা। ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

১.স্বর বর্ণ কাকে বলে, ২.ব্যঞ্জন বর্ণ কাকে বলে?

স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ বলে। ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ। মূল বর্ণগুলো স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে বিভক্ত।

বর্ণমালা কি বা কাকে বলে?

বর্ণমালা : কোনো ভাষা লিখতে যে ধ্বনি- দ্যোতক সংকেত বা চিহ্নসমূহ ব্যবহৃত হয় তার সমষ্টিই হলো বর্ণমালা। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণসমূহকে একত্রে বাংলা বর্ণমালা বলে। বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে।

স্বর বর্ণ কাকে বলে ও উদাহরণ :

স্বরবর্ণ :স্বরধ্বনির লিখিত চিহ্ন বা সংকেত কে বলে স্বরবর্ণ। স্বরবর্ণ মোট ১১টি। যথা:অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ

বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের লিখিত রূপ দুটি : ১. পূর্ণরূপ ও ২. সংক্ষিপ্ত রূপ।

 ১. স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ: বাংলা ভাষা লেখার সময় কোনো শব্দে স্বাধীনভাবে স্বরবর্ণ বসলে তার পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন :

  • শব্দের প্রথমে : নেক, কাশ, লিশ, কিল, ণ, ক ।
  • শব্দের মধ্যে : বেদুন, বাল, পাঁরুটি, আবহায়া।
  • শব্দের শেষে : ব,, যা

২. স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ কারবর্ণ (হসচিহ্ন): স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপকে ‘কার‘ বলে। কার বর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে,নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।কোনো ব্যঞ্জনের সাথে যদি কারবর্ণ বা হস্ চিহ্ন না থাকে ব্যঞ্জনড়ির সাথে একটি’ ‘ আছে বলে ধরে নিতে হবে।

স্বরবর্ণের ‘কার’-চিহ্ন ১০টি। যথা :

  1. আ-কার ( া)
  2. ই-কার (ি)
  3. ঈ-কার (ী)
  4. উ-কার ( ু)
  5. ঊ-কার (ূ)
  6. ঋ-কার (ৃ)
  7. এ-কার ( ে)
  8. ঐ-কার ( ৈ)
  9. ও-কার ( ো)
  10. ঔ-কার (ৗে )

ব্যাঞ্জন বর্ণ কাকে বলে?

ব্যঞ্জনবর্ণ : ব্যঞ্জনবর্ণ মোট ৩৯ টি।যথাঃ

ক খ গ ঘ ঙ, চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম শ ষ স ড় ঢ় য় ৎ ং ঃ ঁ

বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণেরও দুটি লিখিত রূপ রয়েছে ।

১. পূর্ণরূপ ও ২. সংক্ষিপ্ত রূপ।

১. ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্ণরূপ : ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্ণরূপ শব্দের প্রথমে, মধ্যে বা শেষে স্বাধীনভাবে বসে।

  • শব্দের প্রথমে: বিতা, ড়াশোনা, গর।
  •  শব্দের মধ্যে: কালি, খুনা, ফুটবল।
  • শব্দের শেষে : আ, শীত, সিলে

২. ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ (অনুবর্ণ) : ব্যঞ্জনবর্ণের বিকপ্ল রুপকে অনুবর্ণ বলে। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফবর্ণসংক্ষেপ

ফলা:  অনেক সময় ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জন্য ব্যঞ্জনবর্ণের আকার সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। ব্যঞ্জনবর্ণের এই সংক্ষিপ্ত রূপকে ‘ফলা’ বলে। ব্যঞ্জনবর্ণের ‘ফলা’-চিহ্ন ৬টি। যথা :

  1. ন/ ণ-ফলা (ন / ণ ) – চিহ্ন, বিভিন্ন, যত্ন, / পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ।
  2. ব ফলা ( ব ) – পক্ব, বিশ্ব, ধ্বনি।
  3. ম-ফলা (ম) – পদ্মা, মুহম্মদ, তন্ময় ।
  4. য-ফলা ( ্য ) – খ্যাতি, ট্যাংরা, ব্যাংক।
  5. র-ফলা (্র ) – ক্রয়, গ্রহ।
  6. ল-ফলা (ল) –ক্লান্ত, গ্লাস, অম্লান।

রেফ:( ´ ): র এর একটি অনুবর্ণ রেপ(´)- মর্ম,বর্ণ

বর্ণসংক্ষেপঃ যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলোকে বর্ণসংক্ষেপ বলে। যেমন ঙ,দ,ম,স ” ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

যুক্ত বর্ণ কাকে বলে?

যুক্তবর্ণ :

এক বা একাধিক বর্ণ যুক্ত হওয়াকে যুক্তবর্ণ বলা হয় । যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম:১. স্বচ্ছ ও, ২.অস্বচ্ছ ।

১.স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্ঞ, জ্ঝ, ঞ, ডড, ন্ট, ণ্ঠ, দ্দ দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ব্দ, , ল্ক,ন্ন, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ ফ. স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

২.অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ত (ক+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্+র), ক্ষ (ক+ষ), ক্ষ্ম (ক+ষ্+ম), ক্স (ক+স),গু (গ+উ), গ্ধ (গ+ধ), ঙ্ক (ঙ+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ+ঞ), ঞ্চ ঞ+চ), ঞ্ছ (ঞ+ছ), ঞ্জ ঞ+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), ত্থ(ত্+থ), ত্র (ত্+র), ণ্ড (ণ+ড), দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (বৃ+ধ), ভ্ৰ (ভ্+র), ভ্রূ (ভ+র+উ), রু (র্+উ), রূ (র+উ), শু (শৃ+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ+ম) ইত্যাদি ।

সংখ্যাবর্ণঃ

বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে। যথাঃ১,২,৩,৪,৫,৬, ৭,৮,৯,০ ।

১. বর্ণের কয়টি রূপ রয়েছে?

উত্তর : দুই

২. বাংলা বর্ণ কত প্রকার?

উত্তর : ২ প্রকার

৩.বাংত স্বরবর্ণ কয়টি?

উত্তর :১১টি

৪.বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণসংখ্যা কত?

উত্তর :৫০ টি

৫. বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?

উত্তর :৭টি

৬. ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় –

উত্তর :বর্ণ

৭. ব্যঞ্জনের সাথে কারবর্ণ  না থাকলে কি আছে বলে ধরে নেওয়া হয়?

উত্তর :অ

৮.. ষ্ণ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণ দিয়ে তৈরি?

উত্তর :ষ+ণ

৯. স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় –

উত্তর :কারবর্ণ

১০. ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম –

উত্তর :অনুবর্ণ

১১. নিচের কোন জোড়টি যুক্তবর্ণের রূপভেদকে প্রকাশ করে?

উত্তর :স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ

১২.বাংলা কারবর্ণের সংখ্যা –

উত্তর :১০টি

১১ । বাংলা বর্ণমালায় তালব্য ধ্বনি কয়টি?

উত্তর :৮টি (“চ” বর্গীয় ধ্বনি + শ,য, য়)

১২ । বাংলা বর্ণমালায় মূর্ধন্য/পশ্চাৎদন্তমূলীয় ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:৯টি (“ট” বর্গীয়ধ্বনি + ষ, র, ড়, ঢ়)

১৩। বাংলা বর্ণমালায় দন্ত্য ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:৭টি (“ত” বর্গীয় ধ্বনি + স,ল)

১৪। বাংলা বর্ণমালায় ওষ্ঠ্য ধ্বনি কয়টি?

উত্তর :৫টি (“প” বর্গীয় ধ্বনি)

১৫ । বাংলা বর্ণমালায় অঘোষ ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:১৪টি (প্রতি বর্গের ১ম ও ২য় ধ্বনি + ঃ, শ, ষ, স)

১৬ । বাংলা বর্ণমালায় ঘোষ ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:১১টি (প্রতি বর্গের ৩য় ও ৪র্থ ধ্বনি + হ)

১৭ । বাংলা বর্ণমালায় অল্পপ্রাণ ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:১৩টি (প্রতি বর্গের ১ম ও ৩য় ধ্বনি + শ, ষ, স)

১৮। বাংলা বর্ণমালায় মহাপ্রাণ ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:১১টি (প্রতি বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি + হ)

১৯ । বাংলা বর্ণমালায় নাসিক্য/অনুনাসিকধ্বনি কয়টি?

উত্তর:৮টি (প্রতি বর্গের ৫ম ধ্বনি + ং, ৺, ও)

২০ । বাংলা বর্ণমালায় উষ্ম/শিষ ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:৪টি (শ, ষ, স, হ)

২১ । বাংলা বর্ণমালায় অন্তঃস্থ ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:৪টি (ব, য, র, ল)

২২ । বাংলা বর্ণমালায় পার্শ্বিক ধ্বনি কয়টি?

উত্তর:১টি (ল)

(বর্ণ কাকে বলে?  বর্ণ কাকে বলে?  বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? বর্ণ কাকে বলে? )

অবশ্যই পড়ুন-

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *