বিজয় দিবস রচনা / মহান বিজয় দিবস / ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস

আপনি যদি মহান বিজয় দিবস রচনা খুঁজছেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটিতে বিজয় দিবস রচনা উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি যদি বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি সুন্দর রচনা খুঁজছেন তাহলে নিচে দেখে নিন The Victory Day Of Bangladesh Essay In Bengali.

বিজয় দিবস রচনা
মহান বিজয় দিবস রচনা – (Mohan Bijoy Dibosh Rochona)

আজকের আর্টিকেলটিতে যে তিনটি বিজয় দিবস রচনা উল্লেখ করা হয়েছে এগুলো আপনারা মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিজয় দিবস রচনা প্রতিযোগিতায় উপস্থাপন করতে পারবেন।

তাহলে চলুন দেরি না করে সেরা তিনটি বিজয় দিবস রচনা নিচে দেখে নেওয়া যাক।

মহান বিজয় দিবস রচনা / ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস

ভূমিকা:

১৬ ই ডিসেম্বর আমাদের গৌরবময় বিজয় দিবস। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, শােষণ, নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা ঘােষণার পর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ বিজয় অর্জিত হয়। একাত্তরের ১৬ ই ডিসেম্বর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এই দিনটি তাই বাঙালি জাতির জীবনের একটি অবিস্মরণীয় দিন।

মহান বিজয় দিবসের প্রেক্ষাপট:

জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। শুরু হয় পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন, শােষণ, নির্যাতন। দিনের পর দিন বাঙালির ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও শােষণ চালাতে থাকে পাকিস্তানি বর্বর শাসকগােষ্ঠী। বাধ্য হয়ে এই শাসন-শােষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি গড়ে তােলে আন্দোলন সংগ্রাম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে মধ্য দিয়ে বাঙালি অধিকার আদায়ের জন্য তৎপর হতে থাকে।

এসব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ১৬ ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে।

বাঙালিদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা:

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর এদেশের মানুষের সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে দেয় পাক শাসকগােষ্ঠী। তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে রীতিমতাে অবজ্ঞা – অবহেলা করতে থাকে এবং এদেশের জনগণকে শােষণের বস্তুতে পরিণত করে। তাদের ন্যায্য অধিকার না দিয়ে মৌলিক অধিকারগুলাে একে একে কেড়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করে। তারা সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে বাঙালিকে অবমূল্যায়ন করতে থাকে।

তাই নয়, তারা বাঙালির মাতৃভাষাকে কেড়ে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চায়। এমনকি ৭০ এর নির্বাচনে জয়লাভ করার পরও তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে না। এমন অবিচার ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে বাঙালি একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে। অবশেষে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে তাদের সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে।

মুক্তিযুদ্ধ ও আত্মত্যাগ:

১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সােহরাওয়ার্দী উদ্যানে) প্রায় দশ লাখ মানুষের সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে, যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মােকাবিলা করার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে সমগ্র জাতি। ২৫ শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। মধ্যরাতের পর হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গ্রেফতারের পূর্বেই, অর্থাৎ ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। এর পরপরই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলে এই যুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে ভেঙে দিতে শুরু করে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। গণহত্যার পাশাপাশি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শহরের পর শহর, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় তারা। বাংলাদেশ পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে।

৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহিদ হয় । সম্ভম হারায় দুই লাখের বেশি মা বােন। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অদম্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক, নারীসহ সকল শ্রেণি পেশার সর্বস্তরের বাঙালি। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরােধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের আভাস পায় এবং বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে।

অবশেষে বাঙালির দুর্বার প্রতিরােধের মুখে ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় নতুন স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব:

যেকোনাে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনার জন্য বিচক্ষণ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অপরিহার্য। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আন্দোলনেও তেমনই এক বলিষ্ঠ নেতৃত্ব হলেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার কোটি কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একদল বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতা। জেল জুলুম নির্যতন সত্ত্বেও এ নেতৃত্ব তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি।

শত্রুর রক্তচক্ষুকে অগ্রাহ্য করে তারা বাংলাদেশের মানুষকে বিজয়ের স্বপ্নে উজ্জীবিত করেছেন, ঐক্যবদ্ধ করেছেন। বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ঘােষণা দিয়ে অধিকার আদায়ে সবাইকে ঝাপিয়ে পড়ার মন্ত্রণা জুগিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তার নির্দেশনা অনুসরণ করেই অর্জিত হয়েছে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। তাই এমন তেজোদীপ্ত, দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

বিজয় দিবস উদযাপন:

১৬ ডিসেম্বর বাঙালির বিজয়ােৎসবের দিন। এদিন ভােরে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী লাখো শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনগণ সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে মিলিত হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। দিবসটিকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সরকার এদিন সাধারণ ছুটি ঘােষণা করেছে।

এছাড়াও এদিন জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের সকল সামরিক ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়ােজন করা হয়। বিজয় দিবসের এ দিনে সারাদেশের সমস্ত স্কুল – কলেজ, ঘর – বাড়ি, দােকান – পাট ও যানবাহনে লাল – সবুজ পতাকা দেখা যায়। নিব্যাপী রেডিও – টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। সারাদেশের সকল মসজিদ – মন্দির – গির্জা – প্যাগােডায় মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। মােটকথা, দেশের প্রতি জেলায়, প্রতি ঘরে বিজয়ের এ দিনটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হয়।

বিজয় দিবসের তাৎপর্য:

স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল একরাশ স্বপ্ন বুকে নিয়ে। ৪৭ বছরের এ পথপরিক্রমায় সে স্বপ্নের কতটা পূরণ হয়েছে, আজ সে হিসাব মেলাতে চাইবে সবাই। এর মধ্যে আমাদের অনেক চড়াই উতরাই মােকাবিলা করতে হয়েছে। রাজনীতি এগিয়েছে অমসৃণ পথে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দিনগুলােতেই স্বাধীন দেশের উপযােগী একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়ােজন ছিল গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশের । সদ্য স্বাধীন দেশের নেতৃত্বের এ বিষয়ে অঙ্গীকারের অভাব ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তী সময়ে জাতীয় চার নেতাসহ স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুতে এ ক্ষেত্রে মারাত্মক বিচ্যুতি ঘটে এবং তার খেসারত দিতে হয় জাতিকে। এছাড়াও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দারিদ্র্য এখনাে প্রকট। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা পেলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলাে সময়ের সঙ্গে শক্তিশালী হতে পারেনি আজও। রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর বিভক্তি, অনৈক্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড়াে বাধা। এতদসত্ত্বেও আমাদের সামনে সম্ভাবনা অসীম। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব সমস্যা মােকাবিলায় সচেষ্ট হলে আমাদের অগ্রগতি ঘটবে দ্রুত। বিভেদ ভুলে আমরা সে পথেই অগ্রসর হব এই হােক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।

অর্থবহ বিজয়ের জন্য করণীয়:

বিজয়ের এত বছর পর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ। তবে অর্থনৈতিকভাবে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবােধ রক্ষায় তৎপর হতে হবে। তবেই বিজয় হয়ে উঠবে অর্থবহ। যেকোনাে জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতির জন্য প্রয়ােজন এটি।

মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পেছনে কাজ করেছিল মত, পথ, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবার এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এ জন্যই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মাত্র নয় মাসে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা সেই ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি। গুরুত্বহীন বিষয়েও রাজনৈতিক বিভক্তি দেশে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করার পথে বড়াে অন্তরায় হয়ে উঠেছে।

এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের নেতৃত্বকে। সেই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলােয় অভিন্ন নীতি অনুসরণ অপরিহার্য। সর্বোপরি যে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, সহিষ্ণু ও সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন শহিদরা দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নীতি পরিচালিত হবে, এটাই প্রত্যাশিত।

উপসংহার:

বিজয় দিবস বাঙালির জীবনে একই সাথে আনন্দের দিন, আবার বেদনারও দিন। প্রতি বছর এ দিবসটি আমাদের মাঝে ঘুরে ফিরে এসে স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী লাখাে শহিদের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায়। প্রিয় মাতৃভূমির মর্যাদা রক্ষার মহান ইতিহাসের স্মরণে প্রতিবছর বিজয় দিবস অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়ে আসছে। তবে দিবসটি শুধু পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর তাৎপর্য অনুধাবন ও জাতি হিসেবে আমাদের করণীয় ঠিক করতে পারলেই বিজয়ের আনন্দ পূর্ণতা পাবে।

আপনার জন্য আরও আর্টিকেল –

বিজয় দিবস রচনা: ১৬ই ডিসেম্বর

সূচনা:

বাঙালির জাতীয় জীবনে একটি উজ্জ্বল দিন বিজয় দিবস। লাখো শহিদের আত্মত্যাগ, স্বজন হারানোর বেদনা ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের মহান বিজয়। এই দিনে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বীর বাঙালির কাছে পরাজয় স্বীকার করে। তাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জন্ম হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। তাই বিজয় দিবস আমাদের আত্মমর্যাদা, বীরত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

বিজয় দিবসের তাৎপর্য:

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে অনেক বছর। কিন্তু বিজয় দিবসের গুরুত্ব কমেনি এতটুকু। এই দিনটির মাধ্যমেই আমরা নতুন প্রজন্মকে এবং বিশ্বকে বার বার মনে করিয়ে দিই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, শহিদদের কথা। মনে করিয়ে দিই বাংলাদেশ নামে একটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা, যা প্রত্যেক বাঙালি তার হৃদয়ে ধারণ করে আছে।

ঐতিহাসিক পটভূমি:

বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পটভূমিতে রয়েছে দুই দশকের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস। সে ইতিহাসের প্রথম মাইলফলক ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উন্মেষ ঘটেছিল বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা। এই চেতনা ক্রমে বিকশিত হয়ে স্বাধিকার আন্দোলনে পরিণত হয়। ১৯৬২ র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ র ছয় দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে ১৯৭১ এর ৭ মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে স্বাধিকার আন্দোলন চরম শক্তি লাভ করে। বাঙালি জাতি স্বাধীনতা আকাঙ্ক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

২৫ মার্চ মধ্যরাত শেষে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার পরেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমগ্র জাতি ঝাপিয়ে পড়ে প্রতিরোধ সংগ্রামে। ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রামের পর বিজয় ছিনিয়ে আনে মুক্তিযোদ্ধারা। পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ ঐতিহাসিক ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল। দিনটি পরবর্তীকালে জাতীয় ইতিহাসে বিজয় দিবস হিসেবে মর্যাদা পায়।

বিজয় দিবস উদযাপন:

স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশের অসংখ্য বীর শহিদ। তাঁদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ দিবসে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। তোপধ্বনির মাধ্যমে খুব ভোরে দিবসটির সূচনা ঘোষিত হয়। বিজয় দিবসের দিন সারাদেশে লাল সবুজের সাজ দেখা যায়। বাড়ির ছাদে, দোকানে, রাস্তার পাশে, গাড়ির সামনে, স্কুল কলেজে, এমনকি রিকশার হ্যান্ডেলেও শোভা পায় আমাদের লাল সবুজ পতাকা। দেশ জুড়ে শুরু হয় উৎসবের আমেজ।

রাজধানী ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠানের স্বাধীনতার আবেগে উদ্বেলিত নারী পুরুষ উৎসবের সাজে সেজে সেখানে জড়ো হয়। স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীরা নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এদিন সকালবেলা ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা এ কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিবিদ, গণমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষ এ কুচকাওয়াজ উপভোগ করে। বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় বিজয় মেলার। দেশের প্রতিটি জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে এ দিনটি পালিত হয়।

বিজয় দিবসের চেতনা বাঙালির বিজয়ের পথ লাখো শহিদের রক্তে রাঙা। বিজয় দিবস তাই আমাদের মনে সঞ্চার করে গভীর দেশপ্রেম। পূর্বপুরুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস আমাদের গর্বিত করে। দৃপ্তপদে সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন করে অঙ্গীকারাবদ্ধ হই আমরা।

উপসংহার:

বিজয় দিবস শুধুই আমাদের বিজয়ের দিন নয়, এটি আমাদের চেতনা জাগরণেরও দিন। তাই এই দিনে প্রতিটি বাঙালি নতুন করে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় দেশকে গড়তে। সবার প্রত্যাশা বিশ্বসভায় আমরাও যেন সবার সামনের সারিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি, যেন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি , অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে পারি, অশিক্ষা ও দারিদ্র্য থেকে দেশকে মুক্ত করে একুশ শতকের অগ্রযাত্রায় শামিল হতে পারি। তাহলেই আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতার বিজয় যথার্থ অর্থবহ হয়ে উঠবে।

Note: এই বিজয় দিবস রচনা গুলো আপনি রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে সেখানে উপস্থাপন করতে পারেন।

বিজয় দিবস রচনা – মহান বিজয় দিবস রচনা প্রতিযোগিতা

বিজয় দিবস রচনার সংকেত সমূহ – (মহান বিজয় দিবস রচনা ২০ পয়েন্ট)

  • ভূমিকা
  • বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি
  • বিজয় দিবসের তাৎপর্য
  • মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও পরবর্তী বাস্তবতা
  • আমাদের প্রত্যাশা
  • বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান
  • আমাদের করণীয়
  • উপসংহার

রচনাঃ মহান বিজয় দিবস

ভূমিকা:

বিজয় দিবস বাঙালির জাতীয় জীবনে এক আশ্চর্য অনুভূতিময় আনন্দ – বেদনায় শিহরিত এক উজ্জ্বল দিন । মহান স্মৃতি চিহ্নিত এ দিনটিতে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে মুক্তিসংগ্রামের বিজয়কে , স্বদেশভূমিতে আত্মপ্রতিষ্ঠা ঘটেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের । এ বিজয়ের মধ্য দিয়েই শুরু হয় জাতীয় জীবনের এক নবতর অধ্যায় । বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জন করতে শুরু করে । বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ মর্যাদা পায় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ।

বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি :

বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পটভূমিতে রয়েছে বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের এক সংগ্রামী অধ্যায় , রয়েছে পাকিস্তানের জঙ্গিশাহির শাসন – শোষণ , নির্যাতনের বিরুদ্ধে অগ্নিশপথময় আন্দোলন – সংগ্রামের ইতিহাস । সে ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য মাইলফলক মহান ভাষা আন্দোলন ।

পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এ আন্দোলনের মাধ্যমে উন্মেষ ঘটেছিল বাঙালি ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার । এ চেতনার ধারাই ক্রমবিকশিত হয়েছে ১৯৬২ – র শিক্ষা আন্দোলন , ১৯৬৬ – র ৬ দফা আন্দোলন , ১৯৬৯ – এর ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে । এসব আন্দোলনের মুখে ঘটে যায় ১৯৬৯ – এর গণ – অভ্যুত্থান । স্বাধিকার চেতনা ক্রমেই রূপ নেয় জাতীয় স্বাধীনতার আন্দোলনে । পাকিস্তানি সামরিক জঙ্গিশীহির দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অদম্য প্রতিরোধে ফুঁসে উঠেছিল ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি ।

স্বদেশমন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি চক্রের ধর্মান্ধতার বেড়াজাল , অগ্নিশপথ নিয়েছিল স্বাধিকার অর্জনের , ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল দুই শতকের দুঃশাসনের কেল্লাকে । সামরিক জান্তা বাধ্য হয়ে নির্বাচন দিলে বাঙালি জাতি স্বাধিকারের পক্ষে রায় দেয় এবং আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ।

কিন্তু আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় । এ প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের আহ্বানে স্বাধিকার আন্দোলন চরম শক্তি অর্জন করে । কিন্তু বাঙালির স্বাধীন চেতনাকে নস্যাৎ করার হীন প্রয়াসে ৭১ – এর ২৫ শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক জল্লাদ ইয়াহিয়ার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী আক্রমণ চালিয়েছিল এ দেশের নিরীহ জনগণের ওপর ।

বাঙালি জনগণের রক্তে তারা এ দেশের মাটি ও নদীকে করেছিল লাল । হাজার হাজার মা – বোনের ওপর তারা চালিয়েছিল পাশবিক নির্যাতন । অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজে তছনছ করেছিল জনপদ । জল্লাদ বাহিনীর হাত থেকে কোটি কোটি মানুষ দেশ ছেড়ে গিয়েছিল । কিন্তু ৭১ – এর দিনগুলোতে কেবল বিপর্যয়কেই নিয়তি বলে মেনে নেয়নি এ দেশের মানুষেরা । হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল লাখ লাখ দেশপ্রেমিক ।

সমগ্র জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল প্রতিরোধ সংগ্রামে । ছাত্র , শিক্ষক , কৃষক , মজুর , হিন্দু , মুসলিম , বৌদ্ধ , খ্রিষ্টান সবাইকে নিয়ে এক সাথে গড়ে উঠেছিল মুক্তিবাহিনী । হানাদার পাকিস্তানিদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ব্রতী হয়েছিল এ দেশের প্রায় সব নাগরিক । দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করার পর ১৯৭১ – এর ১৬ ই ডিসেম্বর বাঙালি বীর সন্তানেরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে ।

বিজয় দিবসের তাৎপর্য : (বিজয় দিবস রচনা)

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কেবল একটি জাতীয় পতাকা এবং স্বাধীন ভূখণ্ডের মধ্যে সীমিত নয় , এর তাৎপর্য বিরাট এবং সুদূরপ্রসারী । মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে অবহেলিত পশ্চাৎপদ শোষিত জাতি রচনা করেছিল অসামান্য গৌরবগাথা । বিশ্বের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভিয়েতনামের পর আরেক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ ।

সেই সঙ্গেসুদূরপ্রসারী মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে অবহেলিত জাতি রচনা করেছিল অসামান্য গৌরবগাথা । বিশ্বের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ভিয়েতনামের পর আরেক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল বাংলাদেশ । সেই সঙ্গে জাতীয় জীবনে ঘটে গিয়েছিল নবজাগরণ , সৃষ্টি হয়েছিল অযুত সম্ভাবনার মুহূর্ত । স্বাধীনতার চেতনা রূপ পরিগ্রহ করেছিল জাতীয় চার মূলনীতিতে – গণতন্ত্র , জাতীয়তাবাদ , ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের আদর্শে ।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও পরবর্তী বাস্তবতা :

শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হলেও আমাদের স্বপ্ন সম্ভাবনা বাস্তবের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়েছে । ১৯৭৫ – এ ঘাতকের বুলেটের আঘাতে সপরিবারে নিহত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । ফলে এ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট , সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ হয় পরিত্যক্ত । স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র হয় নির্বাসিত ।

প্রায় দেড় দশক ধরে নতুন করে সংগ্রাম করতে হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য । আদর্শিকভাবে স্বাধীনতার মূল চেতনার অনেক কিছুই এখন অধরা । গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকরণে এখনো পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ । অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন এখনো স্বপ্নমাত্র । জাতীয় জীবনে ঐক্যের বদলে সংঘাত , স্বস্তির বদলে অস্থিরতা , শান্তির বদলে নৈরাজ্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ।

আমাদের প্রত্যাশা :

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যাশা উন্নত দেশ । অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একুশ শতকে বাংলাদেশে কিছু উন্নতিও হয়েছে । দেশের অর্ধেকের বেশি লোক দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠতে পেরেছে । যোগাযোগব্যবস্থায় অবকাঠামো গড়ে উঠেছে । কৃষিক্ষেত্রে প্রাণের সাড়া জেগেছে । গ্রামীণ নারীসমাজ জাগতে শুরু মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র করেছে । শিক্ষার হার বেড়েছে , জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে । অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটছে । বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে ।

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান :

বিজয় দিবস উদযাপিত হয় মহাসমারোহে । এদিন ভোরে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে দিবসটির শুভ সূচনা হয় । বাড়ির ছাদে , দোকানে , রাস্তার পাশে , গাড়ির সামনে , স্কুল – কলেজে , সরকারি ভবনে , এমনকি রিকশার শোভা পায় লাল – সবুজের পতাকা । ছাত্রছাত্রীরা নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । ঢাকার প্যারেড ময়দানে সেনাবাহিনীর আয়োজন করা হয় । সরকারি ও বেসরকারিভাবে সারা দেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপিত হয় ।

আমাদের করণীয় :

বিজয় দিবস আমাদের কাছে একদিকে যেমন আনন্দের , অন্যদিকে তেমনি বেদনার । অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ দিবসটি আমরা পেয়েছি । তাই এ দিনটি শুধু বিজয়েরই দিন নয় , এটি আমাদের চেতনার জাগরণের দিন । এদিনে আমাদের প্রধান করণীয় হচ্ছে , দেশ ও জাতিকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হয়ে শহিদদের আত্মদানকে সার্থক করে তোলা । তবেই বিজয় দিবসের মহিমা হবে অর্থবহ।

উপসংহার :

শ্রেয়বোধ ও শুভবুদ্ধিকে আশ্রয় করে আমরা প্রতিকূল ও . অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম । প্রতিটি বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মশাল করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে হতাশা ঠেলে , প্রত্যয়ে ও সাহসে বুক বেঁধে । পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ না করে প্রগতি ও পরিবর্তনের ধারায় অগ্রসর হতে পারলে আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা আমাদের জীবনে অর্থবহ হয়ে উঠবে ।

উপরে তিনটি মহান বিজয় দিবস রচনা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিজয় দিবস রচনা গুলো রচনা প্রতিযোগিতায় উপস্থাপন করা যেতে পারে।

2 Comments

    1. আপনাকে ধন্যবাদ। শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন কনটেন্ট পেতে আমাদের সাথে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *