বীর্য খাওয়ার উপকারিতা

আজেকের আর্টিকেলে আমরা জানব বীর্য খাওয়ার উপকারিতা , বীর্য কি , বীর্য খাওয়া জায়েজ কি না?

বীর্য খাওয়ার উপকারিতা

মেডিকেল ভাষায় বলে বীর্য খেলে তেমন কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু সেটা হতে হবে সুস্থ এবং পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন ব্যক্তির।

বীর্য কি?

বীর্য হলো এক ধরনের জৈবিক তরল পদার্থ যা যৌনসঙ্গমের শেষ পর্যায়ে চরম সুখানুভূতি সৃষ্টির সঙ্গে পুরুষাঙ্গ হতে নি:সৃত হয়।

শুক্রাণূ সমৃদ্ধ পুরুষের বীর্যের মাধ্যমে নারীর ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে জরায়ুতে মানব ভ্রূণের সৃষ্টি হয়।

বীর্য এক ধরনের অঘনীভূত, ঈষৎ ক্ষারীয়, আঠালো জেলির ন্যায় জৈব তরল পদার্থ যা সাধারণত স্পার্মাটোজোয়া ধারণ করার ক্ষমতা রাখে।

বীর্য খাওয়ার উপকারিতা
বীর্য খাওয়ার উপকারিতা আছে কি ? পুরুষাঙ্গ নিঃসৃত তরল পানে কি আছে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি!

বীর্য খাওয়ার উপকারিতা

বীর্যে রয়েছে ডিমের সাদা অংশের মতো প্রোটিন। এটি প্রোটিন জাতীয় খাবার। ডিমের সাদা অংশে যত টুকু প্রোটিন থাকে বীর্যেও সেই প্রোটিন পাবেন। সু স্বাস্থের ব্যক্তির বীর্য খেলে কোন প্রকার ক্ষতি হয় না।

কিছু মহিলার দেহে অ্যান্টিবডির কারণে বন্ধ্যাত্ব, খিচুনি এবং মৃত সন্তান হয়। ওরাল সেক্স এবং বীর্য খাওয়ার মাধ্যমে মহিলারা তার সঙ্গীর অ্যান্টিজেন খেয়ে নেয়, যা অধিকতর নিরাপদ ও সফল গর্ভধারণে সাহায্য করে।

এছাড়াও বীর্য খাওয়ায় মহিলাদের হতাশা দূর হয়, বা এমন কোন প্রভাব আছে কিনা তা নিয়ে কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো হয়নি। কিন্তু বীর্যে মহিলাদের মন চাংগা করার বেশ কিছু যৌগ যেমনঃ এন্ডোফ্রিন, এস্ট্রন, প্রলাক্টিন, অক্সিটসিন, থাইরোট্রপিন-রিলিজিং হরমোন এবং সেরোটোনিন আছে।

কিন্তু যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তির (এইডস, সিভিলিজ, গনরিয়াবা যৌন রোগ) বীর্য খাওয়া হয় তাহলে আপনার বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।

অসুস্থ ব্যক্তির বীর্য খাওয়ার পর সেই বীর্য সরাসরি আপনার পেটে যাচ্ছে, সেখান থেকে আপনার রক্তে মিশে যাচ্ছে। তাই সেক্ষেত্রে আপনি রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেরে যাবে।

যদি আপনি কারোর বীর্য খেতে চান তার শরীরে মধ্যে অপরিচ্ছন্নতা বা বিভিন্ন রোগ যেমন এইডস, সিভিলিজ, গনরিয়া বা যৌণ রোগ  আছে কিনা এটা যাচাই বাছাই করে আপনি তার বীর্য পান করতে পারেন। তা না হলে আপনি যৌন রোগে বা কঠিন রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন।

সুস্বাস্থ্যের ব্যক্তির বীর্য খেলে কোনো প্রকার ক্ষতি নেই বরং এতে প্রোটিন পাওয়া যাবে।

 

পুরুষ /নারী নিজের বীর্য খাওয়ার উপকারিতা

কোন ছেলে /মেয়ে যদি তার নিজের বীর্য নিজে পান করতে চায় তাহলে ক্ষতি হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে অন্য কোনো  ব্যক্তি  বীর্য পান করে তাহলে  ঐ ব্যক্তির যদি যৌন সংক্রমক রোগ থেকে থাকে তাহলে তার সেই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে । যেমন- এইডস।

পুরুষের বীর্য পেটে গেলে কি বাচ্ছা হয় ?

বাচ্ছা হওয়ার জন্য শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মিলন হতে হবে।

ছেলেদের শুক্রাণুর সাথে মেয়েদের ডিম্বাণু মিলন হতে হবে তাহলে বাচ্ছা পেটে আসবে।

তাই বলা যায় যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর বীর্য খেয়ে ফেলে তাহলে প্রেগন্যান্ট হওয়ার কোনো সম্ভবনা নাই।

বীর্য খাওয়ায় মহিলাদের হতাশা দূর হয় এমন কোনো প্রভাব আছে কিনা তা নিয়ে কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানো হয়নি।

কতটুকু বীর্য গেলে বাচ্ছা পেটে আসবে?

বাচ্ছা হওয়ার জন্য নিদিষ্ট  পরিমাণ বীর্যের দরকার হয় না।১ টা শুক্রানু ১টা ডিম্বানুর সাথে মিলিত হয়ে ১টা জায়গোটে তৈরী হয়।আর তা থেকে সন্তান হয়। ১মিলিমিটারে থাকে লক্ষ লক্ষ শুক্রাণু /ডিম্বাণু। যা খালি চোখে দেখা জায় না।

স্বামী/স্ত্রীর বীর্য খেলে কি হয় ইসলাম | বীর্য খাওয়া কি জায়েজ?

 

বীর্য হলো নাপাক বস্তু যা খাওয়া ইসলামে নিষেধ রয়েছে  । ইসলামের দৃষ্টিতে এটা খাওয়া বা মুখে নেওয়া হারাম তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে বলতে গেলে এটা খাওয়া যায় এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপকার ও হয় । তবে না খাওয়াই উত্তম ।

ধর্মীয় বিধি নিষেধে এরকম কাজ এবং ওরাল সেক্স করতে নিরুৎসাহিত  করা হয়েছে।

পুরুষ কিংবা নারীর গোপন স্থানে মুখ লাগানো ধর্মে নিষেধ রয়েছে। তাই বীর্য পান করাও হারাম কাজ।

তাহলে বীর্য খাওয়ার উপকারিতা আছে কিনা এবং এটা খেলে কি হয় এ বিষয়ে আশা করি আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা জানতে পেরেছেন।

 

কি থাকে বীর্যে ?

জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফ্রুকটোস যা স্কিনের যত্নের পক্ষে উপকারী।

বীর্যের মধ্যে স্পার্ম থাকে 10% আর বাকিটা থাকে বিভিন্ন জরুরী নিউট্রিশন। তবে এই 10% ধরে নিয়ে এটা ভেবে নেবেন না যে এটির সংখ্যা নিতান্তই কম। আসলে এটির সংখ্যা বিপুল।

এটা ছাড়াও আর যে সমস্ত জরুরি নিউট্রিয়েন্টস গুলো থাকে সেগুলি সেমিনাল ভেসিকেল থেকে যে ফ্লুইড তৈরি হয় তাতে থাকে ভিটামিন সি, সাইট্রিক এসিড, ফ্রুক্টোজ, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এবং আরো অন্যান্য।

অপরদিকে প্রস্টেট থেকে যে ফ্লুইড তৈরি হয় তাতে থাকে গ্লুকোজ, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংক এবং আরো অন্যান্য জরুরী নিউট্রিয়েন্টস।

 

বীর্যতে কি ভিটামিন থাকে?

ভিটামিন C, ক্লোরিন, সাইট্রিক অ্যাসিড, ফ্রুক্টোস, ল্যাকটিক অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন B12 এবং জিঙ্ক। এই সব কিছুই প্রাকৃতিক কারণে বীর্যের মধ্যে উপস্থিত থাকে। শুক্রাণু যখন যৌনিতে প্রবেশ করে তখন তাকে বাঁচিয়ে রাখতে এই সব পদার্থ সাহায্য করে।

 

বীর্য কিভাবে তৈরি হয়?

স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু তৈরি হয়। শুক্রাণুর পুষ্টি যোগান দেয়ার জন্য সেমিনাল ভেসিকল থেকে বীর্য তৈরি হয়।

শুক্রাণু/বীর্য কোথায় তৈরি হয়?

শুক্রাণু /বীর্য কোষগুলি স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে তৈরি হয়, যা অ্যামনিওটে (সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ী) শুক্রাশয়ের সেমিনিফেরাস নালিকায় সংঘটিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত বেশ কয়েকটি শুক্রাণু কোষের পূর্বসূরীর উৎপাদন জড়িত। এর শুরু হয় স্পার্মাটোগোনিয়ার মধ্য দিয়ে যা পৃথকীকৃত হয়ে স্পার্মাটোসাইটে পরিণত হয়।

পুরুষের বীর্য কত প্রকার?

বীর্যের কোন প্রকার ভেদ নাই বীর্য শুধু একটাই যা পুরুষের চরম উত্তেজনা বসত বের হয় পেনিস দিয়ে তাই বীর্য নামে পরিচিত ।

তবে বীর্যের মাঝেই শুক্রানুর অবস্থান। এছাড়াও পানির মত দেখতে আঠালো পদার্থ হলো কামরস যাকে বীর্য বলা যাবে না। এটি আলাদা ।

পুরুষের বীর্য বের না হওয়ার কারণ কি?

কারণসমূহ হাইপোগনাডিজম, থাইরয়েড ব্যাধি, পিটুইটারি ব্যাধি যেমন কুশিংস রোগের চিকিৎসার ফলে বিলম্বিত বীর্যপাত হতে পারে, এছাড়া প্রোস্টেট সার্জারির ফলে এবং মাদকদ্রব্য ও অ্যালকোহল ব্যবহারের দরুন এ রোগ হতে পারে। প্রচণ্ড উত্তেজনা অর্জনের অসুবিধা থেকেও এ রোগ হতে পারে যেমন শ্রোণী সার্জারির জন্য শ্রোণী স্নায়ু আঘাত প্রাপ্ত হলে।

পুরুষের বীর্যের স্বাদ কেমন?

বীর্য সাধারণত নোনতা ও উষ্ণ হয়। খাদ্দাভ্যাসের উপর বীর্যের স্বাদ নির্ভর করে। মাংস জাতীয় খাবার বেশী খেলে বীর্যের স্বাদ নোনতা হয়ে যায়। অপরদিকে ডাল ও ফল জাতীয় খাবার বেশী খেলে বীর্যের স্বাদ মিষ্টি হয়। যারা ধুমপান অথবা মদ্যপান করে তাদের বীর্যের স্বাদ খুব বাজে হয়।

পুরুষের বীর্য আটকে রাখলে কি হয়?

বীর্য আটকে থাকার রাখলে বা থাকলে বিভিন্ন সমস্যা হিতে পারে। যেমন-

*লিঙ্গত্থান, শুক্রানুর পরিমান কমে যাওয়া।

*বীর্যের পরিমান হ্রাস পাওয়া।

*শাররীক দুর্বলতা বৃদ্ধি।

*অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব

 

জেনে নিন |

প্রতিবার বীর্যপাতের সময় দুই থেকে ছয় মিলিলিটার বীর্য আমাদের শরীর থেকে নির্গত হয়।

এক মিলিলিটার বীর্যের মধ্যে 50 থেকে 100 মিলিয়ন স্পার্ম থাকে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ বীর্যের মধ্যে কোটি কোটি স্পার্ম থাকে।

স্পার্মের গণনার ক্ষেত্রে যদি 20 মিলিয়নের কম হয়ে থাকে প্রতি মিলিলিটার বীর্যের মধ্যে তবে জন্মদানের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়।

সেমিনাল ভেসিকেল থেকে যে ফ্লুইড নির্গত হয় তার রঙ সাদাটে এবং প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড থেকে যে ফ্লুইড বা জলীয় পদার্থ নির্গত হয় তার রঙ স্বচ্ছ।

বীর্যের মধ্যে প্রায় 70% ফ্লুইড থাকে অর্থাৎ জলীয় পদার্থ থাকে।

বীর্য যখন শরীর থেকে নির্গত হয় তখন সেই পদ্ধতিকে বলে বীর্জপাত। ইজাকুলেটর ডাক্ট এর সাহায্যে ইউরেথ্রা হয়ে বীর্যপাত হয়ে থাকে।

অবশ্যই পড়ুন –

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *