বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা – (আমাদের মুক্তিযুদ্ধ)

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা

আপনি যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ রচনা এর খোঁজে রয়েছেন তাহলে আজকের আর্টিকেলে আমি দুইটি Bangladesher Muktijuddho Rocona উল্লেখ করব।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা

নিচে থেকে রচনা দুইটি এক এক করে দেখে নিন মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ।

Table of Contents

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা

ভূমিকা:

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও রক্তাক্ত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পূর্ববাংলার মানুষ অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশ। স্বাধীনতা হলো একটি জাতির আজনা লালিত স্বপ্ন। স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার মধ্যে যেমন গৌরব থাকে, তেমনি পরাধীনতায় থাকে গ্লানি। আর তাই পরাধীন হয়ে কেউ বাঁচতে চায় না। দাসত্বের শৃঙ্খলে কেউ বাঁধা পড়তে চায় না। বাঙালি জাতিও চায়নি বছরের পর বছর ধরে শাসনে – শোষণে পাকিস্তানিদের দাস হয়ে থাকতে। তাই তারা শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে পড়েছিল আন্দোলনে , সোচ্চার হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে। অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পেয়েছিল তাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা। .

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি:

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান নামের দুইটি পৃথক রাষ্ট্র। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ছিল দুটি অংশ – পশ্চিম পাকিস্তান আর পূর্ব পাকিস্তান। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনোই পূর্ব পাকিস্তানকে সমান মর্যাদা দেয়নি। বরং সব সময় চেয়েছে পূর্ব পাকিস্তানকে দমিয়ে রাখতে। পশ্চিম পাকিস্তান সাংস্কৃতিক , অর্থনৈতিক , সামরিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যে জর্জরিত করতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানকে। শিল্প কারখানার কাঁচামালের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান নির্ভর করতো পূর্ব পাকিস্তানের ওপর। শ্রমিকদের অল্প বেতন দিয়ে উৎপাদনের কাজ করাতো। রাজস্ব থেকে আয় , রপ্তানি আয় প্রভৃতির সিংহভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে । পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিরক্ষায় যেখানে ৯৫% ব্যয় হতো , সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষায় ব্যয় হতো মাত্র ৫ শতাংশ।

আবার, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কোনোভাবেই বাঙালিদের হাতে শাসনভার তুলে দিতে চায়নি। পূর্ব পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অভাব , সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ , অবকাঠামোগত উন্নয়নে অবহেলা , মৌলিক নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপসহ সকল প্রকার বৈষম্য স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের দাবিকে জোরালো করে তোলে।

বাঙালির জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশ:

বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয়তাবাদের উন্মেষ পূর্ব থেকে হলেও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে তা জোরালো হয়। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহ আলী জিন্নাহ্ উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। এই ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ভাষার দাবিতে রাজপথে শহিদ হন রফিক , সালাম , বরকত , জব্বারসহ আরো অনেকে। ভাষা ও সংস্কৃতির উপর শাসকগোষ্ঠীর আঘাত ছিল বাঙালির কাছে তাদের অস্তিত্বের মূলে আঘাতস্বরূপ। একদিকে বাঙালিরা যেমন সংকটের প্রকৃতি ও গভীরতা বুঝতে পারে , অন্যদিকে তা মোকাবেলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে।

১৯৫৪ – র নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভ , ১৯৬২ – র গণবিরোধী শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন , ১৯৬৬ – র বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি , ১৯৬৯ – র গণঅভ্যুত্থান , ১৯৭০ – র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় – এই প্রত্যেকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার ফুরণ ঘটে এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সেই বাঙালি জাতীয়তাবাদ চূড়ান্ত স্বীকৃতি লাভ করে।

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক:

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বরং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সরকার তখন ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর ফলে ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতায় উন্মুখ দশ লক্ষাধিক মানুষের সামনে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন –  “আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায় , বাংলার মানুষ বাঁচতে চায় , বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। … এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম , এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এরপর গড়ে ওঠে তীব্র অসহযোগ আন্দোলন।

২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার লিখিত ঘোষণাপত্র দিয়ে যান। ২৬ শে মার্চ দুপুরে এম এ হান্নান চট্টগ্রামের কালুরঘাটের স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন।

অপারেশন সার্চলাইট:

ইতিহাসের ঘৃণিত গণহত্যা ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের অপারেশন সার্চলাইট। ওইদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা , পিলখানা , রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এবং ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে হত্যা করে অসংখ্য নিরস্ত্র বাঙালিকে।

মুজিবনগর সরকার গঠন:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। এই দিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও গৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত সরকার ১৭ ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা ইউনিয়নের আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তখন থেকে এই জায়গার নতুন নাম হয় মুজিবনগর। পরবর্তীকালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী দেশ চলতে থাকে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী সাংবিধানিক পদক্ষেপ ছিল মুজিবনগর সরকার গঠন। এই সরকারের নেতৃত্বে নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। বিশ্বব্যাপী জনসমর্থন আদায়ে এই সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ও জনযুদ্ধ ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ নিরস্ত্র জনগণের উপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমণ চালালে বাঙালি ছাত্র , জনতা , পুলিশ , ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনা সদস্যরা সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বিনা প্রতিরোধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালিরা ছাড় দেয়নি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে বহু মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে শহিদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের এ ঋণ কোনো দিন শোষ হওয়ার নয়। জাতি চিরকাল মুক্তিযোদ্ধাদের সূর্যসন্তান হিসেবে মনে রাখবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বন্তরের বাঙালি অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। তাই এ যুদ্ধকে বলা হয় গণযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। তাই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী , ছাত্র , পেশাজীবী , নারী , সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি করে মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এর সর্বাধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য পুরো দেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। ৩ রা ডিসেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় মিত্রবাহিনী যুক্ত হয়ে যৌথভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করে। যুদ্ধে পর্যুদস্ত হয়ে ১৬ ই ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য নিয়ে জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় হয়।

মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নারী সক্রিয় ছিল কখনও সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে , কখনোবা যুদ্ধক্ষেত্রের আড়ালে । মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছেন , প্রেরণা জুগিয়েছেন এমন নারীর সংখ্যা অসংখ্য। অজানা – অচেনা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা – শুশ্রুষা করেছেন বহু নারী। চরম দুঃসময়ে পাকিস্তানি হানাদারের হাত থেকে রক্ষা করতে নিজেদের ঘরে আশ্রয় দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের । অনেক সময়ে শত্রুর কাছে নিজেদের সম্ভ্রম এবং প্রাণও দিতে হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের অবদান:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন । বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের কাছে ছুটে গিয়েছেন। তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছেন। পাকিস্তানকে অস্ত্র , গোলাবারুদ সরবরাহ না করতে বিশ্বের বিভিন্ন সরকারের নিকট আবেদন করেছেন। এক্ষেত্রে ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা:

যুদ্ধের সময়ে দেশপ্রেম জামতকরণ , মনোবল বৃদ্ধিসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী – সাহিত্যিক – বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ও অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়। পত্রপত্রিকায় লেখা , স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ , দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান , আবৃত্তি , নাটক , কথিকা , জনপ্রিয় অনুষ্ঠান চরমপত্র ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা‌ করে।

মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব:

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পক্ষে দাঁড়ায়। ভারত সে সময়ে এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন দেয়। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের বিরোধিতা করলেও সে দেশের জনগণ , বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়। বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গানের দল বিটলস্ – এর জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত রবিশঙ্কর কনসার্ট ফর বাংলাদেশ – এর আয়োজন করেছিলেন।

ফরাসি সাহিত্যিক আদ্রে মালরো , জাঁ পল সার্ত্রে – সহ অনেকেই তখন বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছিলেন । মুক্তিযুদ্ধের চেতনা : মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ক্ষুধা দারিদ্র্যা – অশিক্ষা – কুসংস্কার থেকে মুক্ত অসাম্প্রদায়িক একটি দেশের – বঙ্গবন্ধু যার নাম দিয়েছিলেন সোনার বাংলা। এই সোনার বাংলা গঠনের চেতনাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা । নতুন প্রজন্মের কাছে এই চেতনাকে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। কেননা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই চেতনার কোনো বিকল্প নেই।

উপসংহার:

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির অহংকার। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এনে দেয়। এই স্বাধীনতা ত্রিশ লক্ষ ভাইয়ের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত , লক্ষ মা – বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া। তাই এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের নিবেদিতপ্রাণ হওয়া উচিত। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো যেমন জরুরি , তেমনি নাগরিকদের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন হওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্তব্যবোধ , ন্যায়নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশের যথার্থ অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

Note: আশা করি উপরের রচনাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। নিচে আরেকটি সুন্দর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা দেখে নিন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা – আমাদের মুক্তিযুদ্ধ

ভূমিকা:

স্বাধীনতা মানুষের আজন্ম লালিত স্বপ্ন । স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হওয়ার মধ্যে যেমন গৌরব থাকে , তেমনি পরাধীনতায় থাকে গ্লানি । আর তাই পরাধীন হয়ে কেউ বাঁচতে চায় না । তেমনি বাঙালি জাতিও চায়নি বছরের পর বছর পাকিস্তানিদের দাস হয়ে থাকতে । তাই তারা শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে পড়েছিল আন্দোলনে , অবতীর্ণ হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে । অবশেষে লাখো প্রাণের বিনিময়ে তারা ছিনিয়ে এনেছে প্রিয় স্বাধীনতাকে । ফলে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের ।

প্রেক্ষাপট:

১৯৪৭ সালে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক , অর্থনৈতিক , সামরিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যে জর্জরিত করতে থাকে পূর্ব পাকিস্তানকে । শুধু তাই নয় , বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার জন্য মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে তারা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায় । সংগত কারণেই বাঙালিরা এর তীব্র প্রতিবাদ করে। পরবর্তীতে ১৯৭০ এর নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী কোনোভাবেই বাঙালির হাতে শাসনভার তুলে দিতে চায়নি। এমন বৈষম্য এবং নিপীড়নের কারণে মুক্তিযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ:

বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয়তাবাদের সূচনা হয় ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা করার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। এই ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি। ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর এই আঘাতের পরই বাঙালি বুঝতে পারে তাদের স্বাতন্ত্র্যকে। তারা বাঙালি জাতি এই পরিচয় তাদের মধ্যে দৃঢ় হতে শুরু করে। জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে এসময় গঠিত হয় বেশ কিছু সংগঠন। ১৯৫৪ র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন , ৬২ র শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন , ৬৬ – র ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি , ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান , ৭০ র নির্বাচনে বিপুল ভোটে ১৬৭ টি আসনে আওয়ামী লীগের বিজয় , এই প্রত্যেকটি ঘটনার মাধ্যমে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশ ঘটে এবং ১৯৭১ সালের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সেই জাতীয়তাবাদ চূড়ান্ত স্বীকৃতি লাভ করে।

স্বাধীনতার ডাক:

১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মুখে নিপীড়নকারী পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগরতলা মামলার প্রধান আসামি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় । যে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে বাঙালির প্রাণের দাবি ৬ দফা উত্থাপন করেছিলেন , ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি রচনা করলেন অনন্য এক ইতিহাস। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে তিনি ১০ লক্ষেরও বেশি স্বাধীনতাকামী মানুষের সামনে বজ্র কণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর সে বক্তব্যেই স্বাধীনতার বীজ লুক্কায়িত ছিল।

২৫ এ মার্চের কালরাত্রি এবং স্বাধীনতার ঘোষণা:

১৯৭০ – এর নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা শুরু করে । এরই মধ্যে ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে গোপনে পূর্ব পাকিস্তানে আসতে থাকে অস্ত্র আর সামরিক বাহিনী। এরপর পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ নয়, মাটি চাই বলে হানাদার বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করে ঢাকা ত্যাগ করে পৃথিবীর অন্যতম জঘনা গণহত্যার হোতা ইয়াহিয়া খান। শুরু হয় ইতিহাসের ঘৃণিত হত্যাযজ্ঞ, যা অপারেশন সার্চ লাইট নামে পরিচিত।

১৯৭১ সালের ২৫ এ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায় নিরস্ত্র বাঙালির ওপর । তারা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় পিলখানা , রাজারবাগ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে । মধ্যরাতের পর হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গ্রেফতারের পূর্বেই অর্থাৎ ২৬ – এ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর স্বাক্ষরিত ঘোষণাবার্তাটি তৎকালীন ইপিআর – এর ট্রান্সমিটারের সাহায্যে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয় । এরপর চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭ এ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচারিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে স্বতঃস্ফুর্ত সংগ্রাম।

মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধ:

৪ এপ্রিল , ১৯৭১ সিলেটের তেলিয়াপাড়ার চা বাগানে কর্নেল এম.এ.জি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিফৌজ গঠন করা হয় । ৯ এপ্রিল মুক্তিফৌজের নামকরণ করা হয় মুক্তিবাহিনী এবং কর্নেল এম.এ.জি ওসমানীকে এই বাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য পুরো দেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় । জুন মাসের শেষের দিকে গেরিলারা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আগস্টে গঠিত নৌ কমান্ডো বীরত্ব ও কৃতিত্বের সাথে যুদ্ধ শুরু করে। ৩ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাঙালিদের সাথে ভারতীয় সেনারাও যোগ দেয়।

মুজিবনগর সরকার গঠন:

১০ এপ্রিল ১৯৭১ কুষ্টিয়ার বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা ইউনিয়নের ভবের পাড়া গ্রামের আম্রকাননে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। এই জায়গার নতুন নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। তাই এই সরকারকে বলা হয় মুজিবনগর সরকার। সেসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করে , রাষ্ট্রপতি শাসিত এই সরকার ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই দিনই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। পরবর্তীতে এই ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হতে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা:

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র জনগণের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমণ চালানোর পর বাঙালি ছাত্র , জনতা , পুলিশ , ইপিআরসহ সর্বস্তরের মানুষ সাহসিকতার সাথে তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ে। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে বহু মুক্তিযোদ্ধা রণাঙ্গনে শহিদ হন , আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন । তাই মুক্তিযোদ্ধাদের এ ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না। এদেশের মানুষ চিরকাল জাতির এই সূর্য সন্তানদের মনে রাখবে । মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। তাই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল , ছাত্র , পেশাজীবী , সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ভূমিকা নেয়।

মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান রাজনৈতিক দল হলো আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগই সর্বপ্রথম পূর্ববাংলার জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে সংগঠিত করে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়েই এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। বস্তুত, তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ ছাড়াও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ন্যাপ (ভাসানী) , ন্যাপ (মোজাফফর) , কমিউনিস্ট পার্টি , জাতীয় কংগ্রেস ইত্যাদি।

তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাকবাহিনীর সমর্থনে মুসলিম লীগ , জামায়াতে ইসলামী , পিডিপিসহ কতিপয় বিপথগামী রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে।

মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যম এবং শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা:

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতে এবং জনমত গঠনে দেশ – বিদেশ থেকে অসংখ্য পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল , মুজিবনগর সরকার ও প্রবাসী বাঙালিদের প্রকাশিত পত্রপত্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্রে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা , ধর্ষণ , ধ্বংসলীলা , সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ , শরণার্থী শিবিরের বর্ণনা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহের বিবরণ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে । এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী সাহিত্যিক – বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ও অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়।

মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব:

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের কাহিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পক্ষে দাঁড়ায়। ভারত সে সময় এক কোটিরও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয় । ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দিয়ে বিশ্বজনমত তৈরিতে এগিয়ে এসেছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন দেয়। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের বিরোধিতা করলেও সে দেশের জনগণ , বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়।

মুক্তিযুদ্ধে যৌথ বাহিনী:

১৯৭১ সালে যুদ্ধের প্রায় শেষদিকে ২১ নভেম্বর ভারতীয় পূর্বাঞ্চল কমান্ডার লে . জে . জগজিৎ সিং অরোরার অধিনায়কত্বে ঘোষিত হয় বাংলাদেশ – ভারত যৌথ কমান্ডো । ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী মিত্রবাহিনী নাম নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে । বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুক্ত হওয়া ভারতীয় বিমান হামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ।

মুক্তিযুদ্ধ ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড:

মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি ও যৌথবাহিনীর দুর্বার প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখে পশ্চিমা হানাদার বাহিনী যখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল , তখন পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের সূর্যসন্তানদের ওপর। আর এ কাজে তাদেরকে সাহায্য করে তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার , আলবদর , আল শামস বাহিনী। দেশের মুক্তিকামী ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনকারী শিক্ষক , চিকিৎসক , প্রকৌশলী , সাংবাদিক , বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়। তাদের বেশিরভাগের ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া যায়।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাঙালির বিজয়:

সংগ্রামী বাঙালি আর মিত্র বাহিনীর সাথে যুদ্ধে হানাদার বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে যৌথ বাহিনীর প্রধান শ্যাম মানেকশ পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজিকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেন। ১৬ ডিসেম্বর বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অর্থাৎ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ৯৩০০০ সৈন্য নিয়ে জেনারেল নিয়াজি সম্মিলিত বাহিনীর প্রধান জগজিৎ সিং অরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন । এসময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকার । এর মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের।

উপসংহার:

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। এর মাধ্যমে অবসান হয়েছিল দীর্ঘ সময়ের শোষণ ও নিপীড়নের। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দী পার হওয়া সত্ত্বেও এখনো আমরা গড়তে পারিনি আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। আমাদের যেমন সংকট আছে , তেমনি সম্ভাবনাও রয়েছে। সব সংকটকে দূরে সরিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। নিজের কর্তব্যবোধ , দেশপ্রেম আর প্রচেষ্টার দ্বারাই সে স্বপ্ন একদিন বাস্তবায়িত হবে।

Note: আশা করি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা দুইটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে এই রচনাগুলো আপনারা রচনা প্রতিযোগিতায় উপস্থাপন করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *