মোবাইল ফোন রচনা – (Mobile Phone Essay in Bengali)

মোবাইল ফোন রচনা: আপনি কি মোবাইল ফোন‌ সম্পর্কে একটি সুন্দর রচনা খুঁজছেন, তাহলে নিচে দেখুন একটি সুন্দর মোবাইল ফোন রচনা দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল ফোন রচনা

Mobile Phone Essay in Bengali.

রচনা: মোবাইল ফোন

মোবাইল ফোন রচনা – (Mobile Phone Essay in Bengali)

ভূমিকা: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়ত সহজ থেকে সহজতর করে তুলছে । বর্তমান যুগে বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার হলাে মােবাইল ফোন বা মুঠোফোন । মােবাইল ফোন টেলিযােগাযােগ ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব এনেছে , আর উন্মােচন করেছে যােগাযােগ মাধ্যমের নবদিগন্ত ।

মােবাইল ফোন কী: মােবাইল ফোন হলাে ছােট আকারের একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস । এর মধ্যে শব্দ বা তথ্য গ্রহণ এবং প্রেরণ করার জন্য ইনপুট এবং আউটপুট ইউনিট থাকে । আর থাকে একটি ডিসপ্লে ইউনিট বা পর্দা , যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজের ফোনে অপর প্রান্ত থেকে আসা কোনাে ফোন কলের নম্বরসহ কানেকশন বা সংযােগের প্রকৃতি দেখতে পায় । সেই সাথে এতে সময় ও তারিখেরও নির্ভুল প্রদর্শন হয়ে থাকে । অতি সহজে হাতের মুঠোয় পরিবহনযােগ্য বলে খুব সহজেই মানুষের মনােযােগ আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে মুঠোফোন ।

মােবাইল ফোন সংযােগ: একটি মােবাইল ফোনের সংযােগ পেতে হলে অনিবার্য কিছু উপাদানকে বৈজ্ঞানিক বিধিসম্মতভাবে সমন্বিত করতে হয় । সর্বাগ্রে প্রয়ােজন একটি মােবাইল হ্যান্ডসেট যার মাধ্যমে আবশ্যক উপাদানগুলােকে যথাযথভাবে ধরে রাখা যায় । সিমকার্ড , পিনকোড ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি এ তিনটি আবশ্যক উপাদানের কোনাে একটি বাদ থাকলে মােবাইল সংযােগ সম্ভব নয় । সিমকার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকে একটি নেটওয়ার্ক যা দ্বারা ফোনটি নিয়ন্ত্রিত হয় । স্থানে স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নেটওয়ার্ক টাওয়ারগুলাে সিমকার্ডের সাথে শতভাগ যােগাযােগ রক্ষা করে চলে ।

মােবাইল ফোনের বিবর্তন: স্বয়ংক্রিয় ও তারবিহীন যােগাযােগ ব্যবস্থা হিসেবে মােবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ বিশ শতকের চল্লিশের দশকে । যদিও এ প্রযুক্তির আবিষ্কার ও কার্যক্ষমতা নিয়ে গবেষণা ও মূল্যায়ন হয়ে আসছিল সুদূর অতীত থেকেই । বিজ্ঞানীরা মােবাইল ফোনে ভিডিও করার পদ্ধতি আবিষ্কার করলে প্রযুক্তিগত দিকে এটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যায় । বিবর্তনের ধারায় এখন অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে মােবাইল ফোন ।

ড . মার্টিন কুপারকে আধুনিক সেলফোনের জনক বলা হয় । তার হাত ধরেই বিচিত্র কাজের এবং দ্রুত যােগাযােগের এ মাধ্যমটি বিকাশের পথ খুঁজে পায় । বর্তমানে সারা বিশ্বের খ্যাতনামা বড় বড় প্রতিষ্ঠান নানা নকশার রকমারি কার্য সম্পাদনে সক্ষম মােবাইল ফোন সেট বাজারজাত করছে । এদের মধ্যে নকিয়া , স্যামসাং , হুয়াওয়ে , সনি অন্যতম ।

মােবাইল ফোনের গুরুত্ব: বর্তমান সময়ে একে অন্যের সাথে দুত যােগাযােগের সহজ মাধ্যম মােবাইল ফোন । সাম্প্রতিক সময়ে মােবাইল ফোনে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আদান – প্রদানসহ ভিডিও চিত্র বিনিময় সম্ভব হয়েছে । মােবাইল ফোনের মাধ্যমে এখন চলতি পথে গল্পের ফাকেও অতি সহজে জেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে সর্বশেষ সংবাদ । দূরের কাউকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে চিঠি বা Message পাঠানাে সম্ভব হচ্ছে মুঠোফোনের কল্যাণেই । ঘড়ি , ক্যালকুলেটর , গেমসসহ নানা কাজে এখন মােবাইলের ব্যবহারই জনপ্রিয় । তাই দৈনন্দিন জীবনে মােবাইল ফোনের গুরুত্ব অপরিসীম । মিনিটের মধ্যেই পাবলিক পরীক্ষার মতাে বড় বড় পরীক্ষার ফলাফল পরিক্ষার্থী ঘরে বসে পাচ্ছে শুধু মােবাইলের জাদুর কাঠির সুবাদেই । কলেজ – বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা , চাকরির পরীক্ষার ফরম পূরণ ইত্যাদি কাজও করা যাচ্ছে মােবাইল ফোন ব্যবহার করে । তাই মােবাইল ফোনের ব্যবহারিক গুরুত্ব যে কোনাে মানুষের কাছেই সর্বাধিক ।

বাংলাদেশে মােবাইল ফোন: বাংলাদেশ সর্বপ্রথম মােবাইলের জগতে প্রবেশ করে ‘ সিটিসেল কোম্পানির মাধ্যমে । ১৯৯৩ সালে এ সুবর্ণ সুযােগটি এদেশের মানুষ গ্রহণের সুযােগ পায় । ১৯৯৬ সালে সরকার গ্রামীণ ফোন , একটেল ‘ এবং সেবা ‘ এ তিনটি কোম্পানিকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমােদন দিলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় । কোম্পানিগুলাে প্রতিযােগিতার মাধ্যমে সাধ্যমতাে প্রচেষ্টা চালিয়ে তাদের নিজ নিজ গ্রাহকসংখ্যা বাড়াতে মনােযােগী হয় । ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মােবাইল হয়ে ওঠে সহজলভ্য । এখন মােবাইল ফোন ব্যবহার কোনাে অসাধারণ ঘটনা নয় , এ যেন নিয়মিত আহার – নিদ্রার মতো সাধারণ ঘটনা ।

মােবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক দিক: মােবাইল ফোনের হাজারাে ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে । মােবাইল ফোন আজকাল সহজলভ্য বলে এবং দ্রুত যােগাযােগে সক্ষম বলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও অতি সহজে সংগঠিত হতে পারে । মােবাইল ফোনের কল চার্জ কম বলে অপ্রয়ােজনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে অপচয়ও করে কেউ কেউ । ছাত্রজীবনে এর ব্যাপক ব্যবহার থেকে দূরে থাকাই সমীচীন ।

উপসংহার: তথ্য প্রযুক্তির প্রবল উল্কর্ষের যুগে মােবাইল এখন সুলভ সামগ্রী । যােগাযােগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এর প্রয়ােজনীয়তাও সমাজে সর্বাধিক । তাই বিজ্ঞানের এ অকৃপণ দানকে মানুষও গ্রহণ করেছে অকৃপণভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *