Skip to content

রোজার নিয়ত, রোজা ভঙ্গের কারণ এবং রোজার ফজিলত

রোজার নিয়ত, রোজা রাখার দোয়া, রোজা ভঙ্গের কারণ এবং রোজার ফজিলত সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো।

ইসলামের তৃতীয় রোকন রোজা । রোজা সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা তার পাক কলামে বলেছেন ।

يا أيها الذين أمنوا كتب عليكم الصيام *

উচ্চারণঃ ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুছ ছিয়ামু

অর্থাৎঃ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা নির্দিষ্ট (ফরয) করা হয়েছে।

রোজা কি?‌‌ (রোজার নিয়ত)

প্রাতঃকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার প্রভৃতি হতে বিরত থাকার নাম রোজা । পবিত্র রমযান মাসের প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত ৩০টি রোজা পালন করা প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর উপর ফরয।

রমযান মাসের ফজিলত

মাসের নাম রমযান। এর অর্থ পুড়ে যায় বা ভষ্ম হয়। অর্থাৎ রমযান মাসের রোজা পালন করে গত জীবনের যাবতীয় পাপ ভষ্মীভূত হয়ে যায়।

পবিত্র রমযান আরবী বছরের অষ্টম মাস। এ মাসের ফজীলত অনেক বেশী। এ মাসকে মহান আল্লাহ পাক বিশেষ ফজিলত দান করেছেন। এ মাসের যে কোন ইবাদতের সওয়াব অন্যান্য মাসের ইবাদত অপেক্ষা ৭০ গুণ

পবিত্র কোরআন শরীফে শুধুমাত্র এ মাসটির নামই উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেন-

شهر رمضان الذي أنزل فيه القران ،

উচ্চারণ: শাহরু রামাদ্বানাল্লাযী উনযিলা ফাঁহিল কুরআন।

অর্থ : রমযান সেই পবিত্র ও মোবারক মাস যে মাসে মহান আল্লাহ তাআলার পবিত্র কোরআন মাজীদ অবতীর্ণ করা হয়েছে।

এ মাসে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উম্মতে মুহম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ৩০ টি রোজা ফরয করেছেন। এ মাসের মধ্যে এমন একটি রাত আছে যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে মহান আল্লাহ পাক ঘোষণা। করেছেন।

হাদীস শরীফে এরশাদ হচ্ছে-

হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যখন রমযান মাস আসে তখন আকাশ বা বেহেশতের দরজা খুলে দেয়া হয়, দোযখের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, শয়তানকে জিঞ্জির দ্বারা আবদ্ধ করা হয় ।

আকাশের দরজা খুলে দেয়ার অর্থ এ মাসে আল্লাহর রহমত উম্মতের উপর অনবরত বৃষ্টির মত বর্ষিত হতে থাকে। দোয়া কবুল হয়, নেক আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়।

রোজার ফজিলত: (রোজার নিয়ত)

রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষের কু-প্রবৃত্তিসমুহকে দমন করে আত্মাকে। সৎপথে পরিচালিত করা। বাস্তবিকপক্ষে কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, নিষ্ঠুরতা, পরশ্রীকাতরতা প্রভৃতি কু-প্রবৃত্তিসমূকে দমন করার জন্য যত ব্যবস্থাই থাকুক না কেন, রোযা থেকে উহাকে জব্দ ও বশ করবার মত অন্য কোন উৎকৃষ্ট পন্থা আর নেই।

হাদীস শরীফে উল্লিখিত আছে যে, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে মানুষ পাঠাবার পূর্বে সমস্ত রূহ সৃষ্টি করে তাদিগকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, “আলাছুতু বি-রাব্বিকুম” অর্থাৎ আমি তোমাদের প্রভু নই? তাতে সমস্ত রূহগণ উত্তর করেছে যে, “আমি আমিই আর তুমি তুমিই।”

অর্থাৎ আমার মত আমি, আর তোমার মত তুমি, আমিও যেমন তুমিও তেমন। তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এতে আল্লাহ তায়ালা রূহদিগকে দোযখে নিক্ষেপ করে হাজার বৎসর পর্যন্ত দোযখের অগ্নিতে জ্বালাবার পর, পুনরায় ঐ প্রশ্ন করেন। কিন্তু রূহগণ পুর্ববৎ উত্তর দিল । আল্লাহ তায়ালা পুনরায় তাদেরকে দোযখে নিক্ষেপ করে হাজার বৎসর পর্যন্ত দ্বিগুণ কঠোর শাস্তি দেয়ার পর তৃতীয় বার ঐ প্রশ্ন করে । রূহগণ এবারও আলাহকে প্রভু বলে স্বীকার না করে পূর্ববৎ উত্তর প্রদান করে।

এবারে আল্লাহ তায়ালা তাদের পানাহার বন্ধ করে দিল। কিছুদিনের মধ্যেই সকলে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে অতিশয় দুর্বল হয়ে পড়ে। তাদের সকল গর্ব চূর্ণ হল।

তারা আল্লাহ পাকের নিকট কাকুতি-মিনতি করে বলতে লাগলো, হে রাব্বুল আলামিন! তুমি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা,পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা। তুমি সর্বশক্তিমান, আর আমরা তোমার আজ্ঞাবহ দাসানুদাস। এ বুঝা যায় যে, রিপুসমূহকে দমন করার ও তাদের গর্ব চূর্ণ করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় রোজা।

একটি উদাহরণের মাধ্যেমে বিষয়টা আরও একটু ভালোরূপে বুঝতে চেষ্টা করা যাক। আর একটি দিক চিন্তা করে দেখুন; যারা চিরদিন ভোগ বিলাসের ভিতর দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে তারা গরীব-দুঃখীর অনাহারজনিত কষ্ট অনুভব করতে পারে না। সেই সমস্ত লোক যদি রমযানে নিয়মিত একমাস রোজা রাখে, তবে ক্ষুধা-পিপাসার জ্বালা যে কি ভীষণ, তা অনুভব করে গরীব-দুঃখীর প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন হতে পারে।

শুধু সারাদিন অনাহারে থাকলেই রোজার উদ্দেশ্য সফল হয় না। শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দ্বারা রোজা পালন করতে হয়।

যেমন,

  • কেউ রোজা রখে মিথ্যা কথা বললে বা কাউকে অন্যায়ভাবে গালি দিয়ে মনে ব্যথা দিলে বা মুখে কোন অশ্লীল কথা বললে মুখের রোযা নষ্ট হয়ে যায়।
  • হাত দ্বারা কোনদ্রব্য চুরি করলে হাতের রোজা নষ্ট হয়ে যায়।
  • পা দ্বারা পাপ পথে গমন করে পায়ের রোজা নষ্ট হয়ে যায়।
  • মনে পাপের কথা চিন্তা করলে মনের রোজা না হয়ে যায়।
  • কান যারা পাপ কথা শুনলে শ্রবণ করলে কানের রোজা নষ্ট হয়ে যায়।
  • চক্ষু দ্বারা আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু দর্শন করলে চক্ষুর রোজা নষ্ট হয়ে যায়।

অতএব, হাত, পা, চক্ষু, কর্ণ, মুখ, মন, পেট প্রভৃতি প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রোযা রাখার বাধ্য করলে তবে পূর্ণাঙ্গ রোজা পালন করা হবে।

হযরত নবী করীম (সাঃ) বলেন, রোজাদার ব্যক্তির প্রত্যেকটি রোজা কিয়ামতের দিন এক একটি ফেরেশতায় পরিণত হয়ে রোজাদারের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহ পাকের নিকট প্রার্থনা করবে।

কিন্তু কতগুলি লোকের রোজা রোজাদারের বিরুদ্ধে আল্লাহ পাকের নিকট নালিশ করবে যে, হে আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দা আমাকে অপমান, অবহেলা ও দুর্দ্দশাগ্রস্ত করেছে।

যারা রোজা রেখে হাতের দ্বারা কোন পাপ কাজ করেছে, তাদের রোজা ঐ দিন লুলা হয়ে তাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে ফরিয়াদ করে বলবে যে, তোমার বান্দা আমাকে লুলা করেছে।

যারা রোজা রেখে পায়ের দ্বারা পাপ পথে অগ্রসর হয়েছে, তাদের রোযা ল্যাংড়া হয়ে সেইদিন উপস্থিত হয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবে এরূপ অসংখ্য অন্ধ, ল্যাংড়া, লুলা, বোবা,বধির প্রভৃতি বিভিন্ন অঙ্গহীন রোজা এসে আল্লাহর নিকট নালিশ জানাবে।

হযরত নবী করীম (সাঃ) বলেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা বলেন ।

* الصوم لي وأنا أجزي بـ

অর্থাৎ রোজা আমার জন্য। এবং আমিই উহার পুরস্কার দিব আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে রোজাদারকে পুরস্কার দেয়ার ওয়াদা করেছেন। এর পাঁচটি কারণ আছে- (১) আল্লাহ পাকের নিজ গুণসমূহ যে ব্যক্তির মধ্যে যত বেশী পরিমাণ পাওয়া যাবে, সে আল্লাহর তত বেশী প্রিয় হবে।

হযরত নবী করীম (সাঃ) বলেছেন

الصوم جنة من النار

অর্থাৎ, রোজা দোযখের ঢাল স্বরূপ। ঢাল যেমন তীর-তলওয়ার প্রভৃতির

আঘাত ফিরিয়ে দেয়, রোযা তেমনি দোযখকে ফিরিয়ে দিবে, কোন রোজার ব্যক্তিকে দোযখে নিক্ষেপ করলে দোযখের অগ্নি তৎক্ষণাৎ ৪০ বৎসরের দূরে সরে যায়। সোবাহানাল্লাহ! কত বড় সৌভাগ্য সেই ব্যক্তির যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ রোজা প্রতিপালন করে।

হাদীস শরীফে উল্লেখিত আছে যে, হযরত ইসরাফিল (আঃ) দ্বিতীয়বার শৃঙ্গায়ধ্বনি করলে সমস্ত লোক কবর হতে উত্থিত হয়ে হাশরের মাঠে একত্রিত হবে। সেই সময় দুনিয়ার একপ্রান্ত হতে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত কোথাও এক টুকরা ছায়া বা একবিন্দু পানি পাওয়া যাবে না। মাথার অর্ধ হস্ত উপরে সুর্য উদিত হবে। সেই ভীষণ উত্তপ্ত মাটির উপর সকলের দাড়াতে হবে।

মা আপন সন্তানকে মাটিতে ফেলে তার উপর দাঁড়াতে কিছুমাত্র কুণ্ঠিত হবে না। ডেকচিতে তৈল দিয়ে অগ্নিতে চাপাইলে যেমন টগবগ করে ফুটতে থাকে। প্রত্যেকের মাথার মগজ সেইরূপ ফুটতে থাকবে। সেই সময় একবিন্দু পানির জন্য মানুস আল্লাহ পাকের নিকট শত সহস্র কাকুতি-মিনতি করে প্রার্থনা করতে থাকবে।

সেই সময় আল্লাহ তায়ালা শুধু রোজাদারকে একটি মেঘের ছায়ায় আশ্রয়দান করবেন, আর ফেরেশতাগনের দ্বারা বেহেশতের খানা ও সরবৎ প্রেরণ করে রোজাদারদিগকে হাশরের মাঠে পানাহার করাবেন। এ সম্বন্ধে আল্লাহ পাক কালামে মাজিদে বলেছেন :

* كلوا واشربوا هنيا بما أسلفتم في الأيام الخالية

অর্থাৎ – তোমরা যেমন রোজা রেখেছো তেমনি আজ সুখে পানাহার কর। সেদিন হাশরের মাঠের লক্ষ-লক্ষ কোটি কোটি লোক আফসোস করে বলবে। যে, হায়! দুনিয়াতে যদি আমরাও রোযা রাখতাম, তবে আজ এই সৌভাগ্যের অধিকারী হতাম । প্রিয় পাঠক পাঠিকাগণ! সেদিন শত শত আফসোস করেও কোন ফল হবে না। অতএব, এখন হতেই এমন মহামূল্যবান রোযার প্রতি যত্নবান হোন।

  • রোজার নিয়ত

রোজার প্রকারভেদ :

সোবহে ছাদেক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়ত করে পানাহার ও সঙ্গমাদি হতে বিরত থাকাকে রোজা বলে।

রোজাতার প্রকার; যেমন।

  1. ফরজ রোজা,
  2. ওয়াজিব রোজা,
  3. নফল রোজা
  4. মাকরূহ রোজা।

১। ফরজ রোজা:

রমযান শরীফের ১ মাস রোজা রাখা এবং এর কাযা ও কাফফারা করা ফরজ।

২। ওয়াজিব রোজা:

নির্দিষ্ট, কি অনির্দিষ্ট মানতের রোজা ওয়াজিব। যেমনঃ কেউ মানত করল যে, আমার অসুখ, বা কাজ সিদ্ধ হলে আগামী শুক্রবার আল্লাহর ওয়াস্তে রোজা রাখব, এটি নির্দিষ্ট মানত। এটি ঐদিনই রাখা ওয়াজিব। যদি উক্ত দিন কোন কারণে না রাখতে পারে, তবে এর কাযা আদায় করাও ওয়াজিব।

৩। নফল রোজা:

শুক্রবার রোজা, আইয়্যা মে বীযের রোজা, বৃহস্পতি ও শুক্রবারের রোজা রাখা, শওয়ালের চাঁদের ছয় রোযা রাখা ইত্যাদি।

৪। মাকরূহ রোজাঃ

এটি দুই প্রকার : (ক) মাকরূহ তানযীহী ও (খ) মাকরূহ তাহরিমী।

ক) কেবল শুক্রবার রোজা রাখা, স্বামীর হুকুম ছাড়া রোজা রাখা, রোজা রেখে চুপ করে থাকা ইত্যাদি রোজা মাকরূহ তানজীহ।

(খ) নিষিদ্ধ দিনে রোজা রাখা মাকরূহ তাহরিমী, যেমন দুই ঈদের দিন এবং যিলহজ্জ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখের রোজা।

অর্থাৎ রোজা আমার জন্য। এবং আমিই উহার পুরস্কার দিব আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে রোজাদারকে পুরস্কার দেয়ার ওয়াদা করেছেন। এর পাঁচটি কারণ আছে- (১) আল্লাহ পাকের নিজ গুণসমূহ যে ব্যক্তির মধ্যে যত বেশী পরিমাণ পাওয়া যাবে, সে আল্লাহর তত বেশী প্রিয় হবে।

হযরত নবী করীম (সাঃ) বলেছেন

الصوم جنة من النار

অর্থাৎ, রোজা দোযখের ঢাল স্বরূপ। ঢাল যেমন তীর-তলওয়ার প্রভৃতির

আঘাত ফিরিয়ে দেয়, রোযা তেমনি দোযখকে ফিরিয়ে দিবে, কোন রোজার ব্যক্তিকে দোযখে নিক্ষেপ করলে দোযখের অগ্নি তৎক্ষণাৎ ৪০ বৎসরের দূরে সরে যায়। সোবাহানাল্লাহ! কত বড় সৌভাগ্য সেই ব্যক্তির যে ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ রোজা প্রতিপালন করে।

তাদের উপর রোজা ফরজ

মুসলমান, বুদ্ধিমান, প্রাপ্ত বয়স্কক পুরুষ ও স্ত্রী যাদের শরীর সুপ্ত ইত্যাদি লোকের উপর রমযান শরীফের রোজা রাখা ফরজ। এ রোজা চাঁদের হিসেবে রাখতে ও ভঙ্গ করতে হবে।

রোজা রাখতে হলে দ্বিপ্রহর রাত হতে ছোবহে ছাদেকের পূর্ব সময়ের মধ্যে সেহরী খেয়ে প্রত্যহ রোজার নিয়ত করতে হয়। রোজার নিয়্ত ছাড়া রোজা সিদ্ধ হবে না।

দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত সে দিনের রোজার নিয়াত করা দূরস্ত আছে। কিন্তু ঠিক দ্বী প্রহর বা তার পর নিয়ত করলে তা জায়েয হবে না।

কাযা, কাফ্ফারাহ ও অনির্দিষ্ট মানতের রোজার নিয়্যত ছোবহে ছাদেকের পূর্বেই করতে হবে।

রোজার নিয়ত | রোজা রাখার নিয়ত নিম্নরূপ

রোজার নিয়ত

রোজা রাখার নিয়ত।

نويت أن أصوم غذا من شهر رمضان المبارك فرسالك نا الله تقبل متى إنك أنت السميع العليم *

রোজার নিয়ত বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতুন আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রামযানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাচ্ছামীউল আলীম।

রোজার নিয়ত বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামী দিন পবিত্র রমযান শরীফের, তোমার নির্দেশিত ফরয রোযা রাখার মনস্থ করলাম। অতএব, হে দয়াময়! আমার থেকে এটি কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী ও জ্ঞানী।

রাতে নিয়ত করলে উক্তরূপ নিয়ত করবে।

সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরক্ষণেই পানি বা কিছু মিষ্টি জিনিস দ্বারা নিম্নের দোয়া পাঠ করে ইফতার করবে। বিনা ওযরে বিলম্ব করে ইফতার করলে রোযা মাকরূহ হবে।

ইফতার করার সময় দোয়া:

الله اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিকের মাধ্যমে ইফতার করছি। (মুআজ ইবনে জাহরা থেকে বর্ণিত, আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮)

ইফতারের পর যে দোয়া পড়তে হয় :

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ

উচ্চারণ: ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ: ‘ (ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো ‘ (আবু দাউদ, মিশকাত)

নিম্ন কারণসমূহে রোযার কাযার করতে হবে

  1. কুলি করার সময়ে হঠাৎ গলায় পানি প্রবেশ করলে।
  2. কেউ কিছু খাওয়ালে ।
  3. নাকে বা কানে ঔষধ ব্যবহার করলে।
  4. মাথার ক্ষতস্থানে ঔষধ প্রয়োগ করলে ।
  5. পেটের কোন ক্ষতস্থানে ঔষধ দিলে (যদি উহার তেজ পেটে কি মগজে প্রবেশ করে)।
  6. গুহ্যদ্বারে ডুশ বা পিচকারী নিলে।
  7. ক্ষুদ্র প্রস্তর রেণু বা মৃত্তিকা খণ্ড গিলে ফেললে।
  8. ভুলক্রমে কিছু আহার করলে ।
  9. মুখ ভরে বমি করলে।
  10. রাত মনে করে ভ্রমে তোর বেলায় ছেহরী খেলে।
  11. সন্ধ্যা মনে করে দিন থাকতে ইফতার করলে।
  12. রোযাদার যদি মনে করে যে, তার রোযা নষ্ট হয়ে গেছে এবং এজন্য রোযা ভেঙ্গে ফেলে, তবে তাকে উক্ত রোযার শুধু কাযা করতে হবে।
  13. বুট পরিমাণ মাংস দাঁতের ফাঁকে আটকালে রোযা কাযা করতে হবে। যদি বুটের চেয়ে কম হয়, তবে রোযা কাযা করতে হবে না, কিন্তু যদি তা মুখ হতে বের করে পুনরায় কেয়ে ফেলে, তবে রোযা ভঙ্গ হবে এবং কাযা করতে হবে।

কি কি কারণে রোজা ভঙ্গ করা যায়ঃ

  1. বৃদ্ধ ব্যক্তি রোজা রাখতে অক্ষম হলে ।
  2. পীড়িত ব্যক্তির পীড়া বৃদ্ধির ভয় থাকলে ।
  3. মুছাফির অবস্থায় (কেউ সরাসরি ৪৮ মাইল দূরত্বে যাওয়ার নিয়্যত করে বাড়ি থেকে রওয়ানা করলে)।
  4. দুগ্ধবতীর দুগ্ধ শুকিয়ে গেলে সন্তানের কষ্ট হবার আশঙ্কা থাকলে।
  5. গর্ভবতীর গর্ভ নষ্ট হওয়ার ভয় থাকলে ।
  6. মেয়েলোকের মাসিক হলে।

রোজা ভঙ্গের কারণ: যেসব কারনে রোজা ভঙ্গ হয়

  1. ভুলে খাওয়া বা পান করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা।
  2. রোজা থাকা অবস্থায় বিড়ি-সিগারেট বা মাদক সেবন করা।
  3. এমন কোনো বস্তু খাওয়া, যা সাধরণত খাওয়া হয় না। যেমন- কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি।
  4. ইচ্ছা করে পাথর, কাদামাটি, কঙ্কর, তুলা-সুতা, তৃণলতা, খড়কুটো ও কাগজ গিলে ফেলা
  5. নিজের থুতু হাতে নিয়ে গিলে ফেললে।
  6. ভুলে স্ত্রী সম্ভোগের পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস সম্পর্ক করা।
  7. কানে বা নাকের ছিদ্র দিয়ে তরল ওষুধ দেওয়া।
  8. দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে যদি তা থুতুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালিতে চলে যায়।
  9. মুখে পান দিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক করা।
  10. হস্তমৈথুন করা।
  11. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি কিংবা নাকে পানি দেওয়ার সময় কণ্ঠনালিতে পানি চলে যাওয়া।
  12. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা বা বমি আসার পর তা গিলে ফেলা।
  13. যদি কেউ রাত ধারণা করে স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয়ে যায়, অতঃপর সুবহে সাদিকের কথা জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ সহবাস থেকে বিরত হয়ে যায়।
  14. সজ্ঞানে আহারাদি এবং রতিক্রিয়া করলে।
  15. জোরপূর্বক ইফতার করালে।
  16. রমজান মাসের মধ্যে রোজা রাখার এবং ইফতার করার নিয়াত করলে বিষয় রোজা শুধু কাযা করলেই হবে।

মাকরূহাতে রোজাঃ নিম্নলিখিত কারণে রোযা মাকরূহ হয়

  1. খাদ্যদ্রব্য চেখে দেখা; কিন্তু রন্ধন দ্রব্য সুস্বাদ না হলে স্বামীর অত্যাচারের ভয় থাকলে মজা চেখে দেখতে পারে। অনুরূপ শিশু সন্তানের কোন খাদ্যদ্রব্য চিবিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হলে চিবিয়ে দিতে পারে, তাতে রোযা মাকরূহ হবে না।
  2. যোহরের নামাযের ওয়াক্তের পর মেছওয়াক করা, মুখে তেল ব্যবহার করা ও চোখে সুরমা লাগান মাকরূহ নয় ।
  3. রোজা রেখে অযু ও গোসলের সময় ব্যতীত কুলি করা।

যেসব কারণে রোযা নষ্ট হয় না

  1. ভুলে পানাহারাদি ও রতিক্রিয়াদি করা,
  2. স্বপ্নদোষ হওয়া,
  3. তৈল মালিশ করা,
  4. চোখে সুরমা ব্যবহার করা,
  5. অপরের অনিষ্ট চর্চা করা
  6. মিথ্যা কথা বলা,
  7. হঠাৎ ধূলা, মশা-মাছি গলার মধ্যে ঢুকলে, কিন্তু হুক্কার ধুয়া অথবা অন্যান্য ধুয়া গলার মধ্যে ইচ্ছাপূর্বক প্রবেশ করালে রোজা নষ্ট হবে ।
  8. হঠাৎ কর্ণের ভিতরে পানি ঢুকলে ।
  9. কণ্ঠ পর্যন্ত বমি উঠে আবার গলার নিম্নে নেমে যাওয়া অথবা একটু বের হলে।
  10. অনিচ্ছায় শুক্র বের হলে।
  11. যদি কোন বৃদ্ধলোক রোজা রাখতে সক্ষম না হয়, তবে রোযা রাখবে না । কিন্তু প্রতি রোজার জন্য একজন করে মিছকীনকে আছুদা করে দুই বেলা খাওয়াতে হবে ।

রোজার সুন্নতসমুহ

  1. ছেহরী খাওয়া ।
  2. সূর্যাস্তের পর তাড়াতাড়ি ইফতার করা ।
  3. ইফতারের দোয়া পাঠ করা।
  4. রোযা থাকাকালীন সংযমী হওয়া। যেমন মিথ্যা না বলা, অপরের ক্ষতি, অত্যাচার, নিষ্ঠুরতা ইত্যাদি পরিত্যাগ করা এবং যাবতীয় পাপকর্ম থেকে দূরে থাকা। দিবসের অধিকাংশ সময়ে দোয়া, দরূদ ইত্যাদি পাঠে মশগুল থাকা।
  5. দান-খয়রাত করা ।
  6. রমজানের প্রতি রাতে তারাবীহ নামায পাঠক করা।
  7. তারাবীহ নামাযে কুরআন শরীফ একবার খতম করা অথবা শ্রবণ করা ।
  8. ই’তেকাফ করা ।

রোজার কাফ্ফারা দেয়ার নিয়ম

স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, বিনা কারণে পবিত্র রমযান মুবারকে রোজা ছেড়ে দিলে বা ভঙ্গ করলে নিম্ন বর্ণিত তিনটি উপায়ের, কোন একটি অবশ্যই মাধ্যমে কাফফারা করতে হবে। যেমন

  1. একজন গোলাম আযাদ করে দেয়া।
  2. ষাটজন মিছকীনকে আহার করান ।
  3. অথবা এককালীন দুই মাস রোজা রাখা ।

যে যে দিবসে রোযা রাখা হারাম:

নিম্নলিখিত দিনে রোজা নিষিদ্ধ বা হারাম।

  1. ঈদুল ফেতরের দিন।
  2. ঈদুল আযহা এবং তার পরবর্তী তিন দিন।

বছরে মোট এই ৫ দিন রোজা রাখা হরাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.