Ayatul Kursi Bangla – আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ এবং ফজিলত

Ayatul Kursi Bangla: পবিত্র কুরআন শরিফের দ্বিতীয় সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি আয়াতুল কুরসি (Ayatul Kursi) নামে পরিচিত।

আয়াতুল কুরসি হলো কুরআন শরিফের প্রসিদ্ধ একটি আয়াত। এই আয়াতটির রয়েছে অনেক ফজিলত।

আয়াতুল কুরসি কি ?

কুরআন শরিফের সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি।

আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা.) একদিন মহানবী (সা.) কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? এর উত্তরে রাসূল (সা.) বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসী।

আয়তুল কুরসি বেশি বেশি পাঠ করলে অসংখ্য পুণ্য লাভ করা যায়। আয়াতুল কুরসি হলো পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠতম আয়াত। এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালার আটটি সিফাত বা গুণ বর্ণনা করা হয়েছে।

বিভিন্ন সহীহ হাদিসে বিভিন্ন সময়ে আয়াতুল কুরসি পাঠ করার অনেক ফজিলতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

এই কারণে আমরা প্রতিবার ফরজ নামাজ আদায় করার পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করে থাকি।

আমাদের কেন আয়াতুল কুরসি বেশি পাঠ করা উচিত ?

Ayatul Kursi কোরআন শরীফের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আয়াত এবং ইসলামিক বিশ্বে এই আয়াতটি ব্যাপকভাবে মুখস্ত করা হয়।

এই আয়াতে সমগ্র মহাবিশ্বের উপর মহান আল্লাহ তায়ালার জোরালো ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর সাথে সাথে আয়তুল কুরসি পাঠ করবে তার সাথে জান্নাতের ব্যবধান হবে মৃত্যু। তার মানে মানে মৃত্যু হলেই তিনি জান্নাতে যাবেন।

তাই আমাদের প্রত্যেকেরই আয়াতুল কুরসি আরবি ও বাংলা উচ্চারণ, আয়াতুল কুরসি বাংলা অর্থ এবং আয়াতুল কুরসির ফজিলত জেনে রাখা খুবই জরুরি।

তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা আয়াতুল কুরসি বাংলা (Ayatul Kursi in Bangla) এ বিষয়ে সবকিছু আলোচনা করতে চলেছি।

তাহলে চলুন নিচে আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ জেনে নেওয়া যাক।

Ayatul Kursi Bangla

আয়াতুল কুরসি আরবি

اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْحَـىُّ الْقَيُّوْمُ  لَا تَاْخُذُهٗ سِنَةٌ وَّلَا نَوْمٌ‌ؕ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْاَرْضِ‌ؕ مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖ‌ؕ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ‌ۚ وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ‌‌ۚ وَلَا يَـــُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ‌ۚ وَ هُوَ الْعَلِىُّ الْعَظِيْمُ

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ (Ayatul Kursi Bangla Uccharon)

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুমু লা তা খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াশ ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম। (সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫৫)

আয়াতুল কুরসি বাংলা অর্থ

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও জমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি

আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি
Ayatul Kursi Bangla Uccharon Picture.

আয়াতুল কুরসিতে শব্দগুলোর অর্থ: Ayatul Kursi With Bangla Meaning

কুরআন শরীফের দ্বিতীয় সূরা সূরা আল বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতকে আয়াতুল কুরসি নামে ডাকা হয়। এর ৯ টি অংশ আছে।

২৫৫ – ১

আল্লাহু – আল্লাহ্‌

লা – নেই

ইলাহা – ইলাহ (প্রভু)

ইল্লা – ছাড়া

হুয়া – তিনি

ল্‌- হাইউ (হ – গলার ভেতর থেকে উচ্চারিত হবে) – চিরজীবী

ল্‌ – কাইঊম – (যা কিছু আছে তার) প্রতিপালক

(আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক)

২৫৫ – ২

লা – না

তাখুজু হু – স্পর্শ করে তাকে

সিনাতুন – তন্দ্রা

ও লা – এবং না

নাওম – নিদ্রা

(তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়।)

২৫৫ – ৩

লাহু – কাছেই তাঁর

মা – যা কিছু

ফি – মধ্যে

স্‌-সামাওয়াতি – আসমান

ওয়ামা – এবং যা কিছু

ফি – মধ্যে

ল্‌-আরদ্‌ – জমিনে

(আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। )

২৫৫ – ৪

মান – কে?

যা – (সেই) এক জন

ল্‌-লাঝি – যে

ইয়াশফাউ – সুপারিশ করবে

ইন্‌দা হু – সাথে তাঁর (আল্লাহ্‌)

ইল্লা – ব্যতিত/ছাড়া

বি-ইঝনিহি – তাঁর অনুমতি।

(কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া?)

২৫৫ – ৫

ইয়া-লামু – তিনি জানেন

মা – কী

বাইনা – আছে

আইদিহিম – তাদের সামনে

ওয়ামা – এবং কী

খালফাহুম – পেছনে তাদের।

[দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। অথবা তিনি জানেন তাদের সামনে (ভবিষ্যৎ) কী এবং পেছনে (পূর্বে) কী]

২৫৫ – ৬

ওয়ালা – এবং না

ইউহিতূনা (হ – গলার ভেতর থেকে উচ্চারিত হবে) – তারা ধারণ করে

বিশাঈ – কোনো কিছুই

ইম্‌মিন – এর

ঈল্‌মিহি – তাঁর জ্ঞান

ইল্লা – ব্যতিত/ছাড়া

বিমা – যা

শাআ – তিনি চেয়েছেন।

(তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত/ধারণ করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। )

২৫৫ – ৭

ওয়াসিয়া – প্রসারিত

কুরসিইউহু – সিংহাসন তাঁর

স্‌-সামাওয়াতি – নভোমন্ডলে

ওয়াল্‌-আরদ্‌ – এবং জমিনে

(তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও জমীনকে পরিবেষ্টিত করে/প্রসারিত/ছড়িয়ে আছে।)

২৫৫ – ৮

ওয়ালা – এবং না

ইয়াউদুহু – অবসন্ন করে তাঁকে

হিফঝুহুমা – রক্ষণাবেক্ষণ উভয়ের

(আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। / এবং তাঁকে উভয়ের রক্ষণাবেক্ষণ অবসন্ন করে না)

২৫৫ – ৯

ওয়াহুয়া – এবং তিনি

ল্‌- আল্‌-ঈউ – সর্বচ্চো/ সব থেকে উঁচুতে

ল্‌- আজীম – সর্বাপেক্ষা মহান।

(তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান)

আয়াতুল কুরসির আটটি গুণ

মহান আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের মধ্যে তার আটটি গুণের কথা বলেছেন। যেমন:

প্রথম গুণ:

আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তিনি চিরস্থায়ী, তিনি চিরঞ্জীব। তার কোন শরীক নেই। আল্লাহর কোন অংশীদার নেই। তার সমকক্ষ কেউ নেই। তার নিজ সিংহাসন হতে আসমান, জমিন, ভূমন্ডল, নভোমন্ডল সবকিছু তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি যেমন আছেন চিরকাল তেমনি থাকবেন।

দ্বিতীয় গুণ:

আল্লাহ আল্লাহ তায়ালাকে কখনো তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না।

তৃতীয় গুণ:

আসমান এবং জমিনে যা কিছু আছে তার সবই আল্লাহর প্রশংসা করেন।

চতুর্থ গুণ:

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, এমন কে আছো আমার অনুমতি ছাড়া আমার কাছে সুপারিশ করতে পারে? সকল সাফায়াতের চাবিকাঠি আল্লাহর হাতে। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তার কাছে কেউই সুপারিশ করতে পারবে না।

পঞ্চম গুণ:

আল্লাহ অন্তর জামি। তিনি সব কিছুই জানেন। এই পুরো নভোমন্ডল, ভূমন্ডলে যা কিছু ঘটছে বা ঘটবে তিনি সব কিছুই জানেন।

ষষ্ঠ গুণ:

আল্লাহ তায়ালা সকল জ্ঞানের আধার। তিনি যতোটুকু চেয়েছেন আমাদেরকে ততোটুকু জ্ঞান দান করেছেন। এর বেশি একটুও দেন নি।

সপ্তম গুণ:

আল্লাহ তায়ালা নভোমন্ডল, ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন আর আমরা এর ভিতরে বসবাস করছি। আমরা আল্লাহ তায়ালার কুরসীর মধ্যেই বসবাস করছি। আমরা চাইলেও এর বাহিরে যেতে পারবো না।

অষ্টম গুণ:

আল্লাহ তায়ালা কখনো ক্লান্ত হন না। আল্লাহর কোন অবসাদ নেই। আর সব কিছুই মানলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর খুশি হবেন আর জান্নাত লাভ করা আমাদের পক্ষে সহজ হবে।

আয়াতুল কুরসির ফজিলত (Ayatul Kursi Bangla)

১) জান্নাতের দরজা

হাদিসে আছে, যারা পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তাদের জন্য জান্নাতে যেতে মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাধা থাকবে না। অর্থাৎ মৃত্যুর সাথে সাথেই সেই ব্যক্তি জান্নাতের শান্তি উপভোগ করতে থাকবে।

আবূ উমামা (রা.) হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর অন্য কোন কিছু বাধা থাকবে না। (সহীহ আল্ জামে: ৬৪৬৪)

হজরত আলী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি,

যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের আগে পড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশীর ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। (সুনানে বাইহাকী)

২) ফেরেশতা নিযুক্তকারী আয়াত

হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি আয়াতুল কুরসি পাঠ করে ঘুমাতে যাবে, আল্লাহ তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিবেন এবং সে ফেরেশতা তাকে সারারাত পাহারা দিবে এবং দুষ্ট জীন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে।

আবু হুরায়রা (রা.) একদিন দেখতে পেলেন একজন আগন্তুক সাদকার মাল চুরি করছে। তখন তিনি আগন্তুকের হাত ধরে বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব।” তখন আগন্তুক বলে যে, সে খুব অভাবী। তাই দয়া করে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন।

পরদিন সকালে রাসূল (সাঃ) এর কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন “গতকাল তোমার অপরাধী কি করছে?”

তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসূল (সাঃ) বললেন, ” সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।”

পরদিন আবু হুরায়রা (রা.) চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবারও চুরি করতে আসল তখন তিন তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেন, “এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব।”

এবারও সেই চোর বলে যে সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন আর শপথ করে যে আর আসবে না।

পরদিন আবারও রাসূল তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একই জবাব দেন আর তখন তিনি বলেন, “আসলেই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে।”

পরদিনও আবার আবু হুরায়রা (রা.) চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবারও চুরি করতে আসল তখন তিন তাকে পাকড়াঁও করলেন আর বললেন, “এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব। তুমি বারবার শপথ কর আর চুরি করতে আস।”

চোর যখন দেখলো, এবার সে সত্যিই রাসূল (সা.) এর কাছে নিয়ে যাবে তখন অবস্থা বেগতিক দেখে সে বলে, “আমাকে মাফ কর। আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।”

আবু হুরায়রা (রা.) সেটা জানতে চাইলে চোর বলে, “যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসী (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল……) পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহাড়াদার নিযুক্ত করবে যে তোমার সাথে থাকবে আর কোন শয়তান সকাল পর্যন্ত তার কাছে আসতে পারবে না।” এটা শুনে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন।

পরদিন রাসূল (সা.) আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন। তখন রাসূল (সা.) বললেন, “যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে।” রাসূল (সা.) আবু হুরায়রা (রা.) কে বললেন, “তুমি কি জান সে কে?” আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, “না।” রাসূল (সাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বললেন, “সে হচ্ছে শয়তান।” (সহীহ বুখারী নং ২৩১১)

৩) সবচেয়ে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি

আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা.) নবী (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে? উত্তরে রাসূল (সা.) বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসী। (নাসায়ি) 

উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “তোমার কাছে কুরআন মজীদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্‌ হাইয়্যূল কাইয়্যূম) তারপর রাসূলুল্লাহ্ নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করে বলেন, আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ।” (সহীহ মুসলিম ১৭৫৫)

৪) আয়াতুল কুরসির জিহবা ও ঠোট রয়েছে

উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত: নবী কারীম (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ আয়াতুল কুরসীর একটি জিহবা ও দুটি ঠোট রয়েছে এটি আরশের পায়ার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করতে থাকে। (মুসনাদে আহমদ: ২১৬০২)

৫) আয়াতুল কুরসি জিকিরের ফজিলত

উবাই ইবনে কাব (রা.) হতে বর্ণিত, তাঁর এক খেজুর রাখার থলি ছিল। সেটায় ক্রমশ তার খেজুর কমতে থাকত। একরাতে সে পাহারা দেয়। হঠাৎ যুবকের মত এক জন্তু দেখা গেলে, তিনি তাকে সালাম দেন। সে সালামের উত্তর দেয়।

তিনি বলেন, তুমি কি? জিন না মানুষ?

সে বলে, জিন।

উবাই (রাঃ) তার হাত দেখতে চান। সে তার হাত দেয়। তার হাত ছিল কুকুরের হাতের মত আর চুল ছিল কুকুরের চুলের মত। তিনি বলেন, এটা জিনের সুরত।

সে (জন্তু) বলে, জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে আমি সবচেয়ে সাহসী।

তিনি বলেন, তোমার আসার কারণ কি?

সে বলে, আমরা শুনেছি আপনি সাদকা পছন্দ করেন, তাই কিছু সাদকার খাদ্যসামগ্রী নিতে এসেছি।

সাহাবী বলেন, তোমাদের থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?

সে বলে, সূরা বাকারার এই আয়াতটি (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহ হুআল হাইয়্যূল কাইয়্যূম… …), যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পড়বে, সকাল পর্যন্ত আমাদের থেকে পরিত্রাণ পাবে। আর যে ব্যক্তি সকালে এটি পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের থেকে নিরাপদে থাকবে। সকাল হলে তিনি রাসূলুল্লাহ্‌র কাছে আসেন এবং ঘটনার খবর দেন।

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন, খবীস সত্য বলেছে। (সহীহুত্‌ তারগীব: ১/৪১৮)

৬) শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাচার আয়াত

হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত: রাসুল (সা.) বলেছেন, সুরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। (মুসতাদরাকে হাকিম: ২১০৩)

৭) যারা আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তাদের জান্নাতের আটটি দরজার সবগুলো দিয়ে প্রবেশ করার সুযোগ দিবেন।

Ayatul Kursi Bangla: সর্বশেষ

আমাদের প্রত্যেকেরই বেশি করে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা উচিত।

আশা করি আজকের আর্টিকেলে আপনারা আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ (Ayatul Kursi in Bengali) এবং আয়াতুল কুরসি বাংলা অর্থ জানতে পেরেছেন।

আল্লাহ্‌ আমাদেরকে আয়াতুল কুরসী (Ayatul Kursi) মুখস্ত এবং বেশি বেশি পাঠ করার তাওফিক দান কারুন এবং এর গুরুত্ব অনুধাবন করে আমাদের জীবন গড়ার তাওফিক দান কারুন (আমিন)।

Ayatul Kursi Bangla এর মতো আরও কিছু আর্টিকেল পড়ুন –

About Author

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *